“মববাজি আর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র জুলাই প্রজন্ম মেনে নিবে না”

# শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে খুলনায় ছাত্রশিবিরের মানববন্ধনে বক্তারা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ “পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরাজয়ের পর ছাত্রদল ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। মববাজি আর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র জুলাই প্রজন্ম কোনোভাবেই মেনে নিবে না। হারার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে তরুণদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রসমাজ কখনোই মেনে নেবে না।” সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৪.৩০ মিনিটে নগরীর বাবরি চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) এ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খুলনা মহানগর শাখা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল হাইকোর্টে গিয়ে এমন একটি রায় আদায় করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদসহ সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে।”
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগর সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন বলেন, “পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, একটি ছাত্র সংগঠন খেলাচ্ছলে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এর আগেও কিছু সংগঠন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে নানা অজুহাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। নির্বাচন বাস্তবায়নের পথে যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামবে।”
খুলনা মহানগর সেক্রেটারি রাকিব হাসান বলেন, “হাইকোর্ট ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় শাকসু নির্বাচন পেছানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা বুঝে গেছে দেশের ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো কারা পেছাতে চায়, কারা নব্য ফ্যাসিবাদকে মদদ দিতে চায়।বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজনতা নতুন ফ্যাসিস্ট তৈরির এই আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
মহানগর দপ্তর সম্পাদক ইসরাফিল হোসেন বলেন, “স্বৈরাচারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে মুক্ত হবে এবং ছাত্রদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু ডাকসুসহ যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে।”
মহানগর সেক্রেটারি রাকিব হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর দপ্তর সম্পাদক ইসরাফিল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, প্রচার সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, এইচআরডি সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রশিদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক ইমরানুল হক, পাঠাগার সম্পাদক সেলিম হোসেন, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মুয়িজ্জু, মাদরাসা সম্পাদক হাফেজ মুজাহিদুল হক, বিজ্ঞান সম্পাদক জে আই সাবিত, স্কুল সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, গবেষণা সম্পাদক ফারহান তূর্য, ক্রীড়া সম্পাদক সুলাইমান আবিদ, সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন প্রমুখ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ছাড়াও সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।



