খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগী ভর্তির ভোগান্তি কাটছেনা

শেখ ফেরদৌস রহমান : খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরকারীভাবে একমাত্র আধুনিক হাসপাতাল। যেখানে অসহায় গরীব রোগীরা সরকারী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। তবে, হাসপাতালটির আন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তি হতে বিভিন্ন নিয়ম আর জরুরী বিভাগে একটি সিরিয়াল দিতে দিন পার হয়ে যায় রোগীর স্বজনদের। এরপর সিরিয়াল নাম্বার হওয়ার পরও কবে নাগাদ অসুস্থ্য রোগী ভর্তি হতে পারবে হাসপাতালে জানেনা। এজন্য অনেকে রাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক প্রভাব খাটিয়ে ভর্তি হতে মরিয়া হয়ে উঠে। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে বর্তমান ২২৩টির মত শয্যা আছে যার মধ্যে নেফ্রোলজি বিভাগে মোট শয্যা ২৪টি, নিউরোলজি বিভাগে মোট ৩০টি শয্যা, কার্ডিওলজি বিভাগে ৩০ টি শয্যা যার মাধ্যে সিসিইউতে ১৮টি পিসিসিইউতে ১২টি শয্যা , এছাড়া ইউরোলজি বিভাগে ২৫টি শয্যা, বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারীতে ২০টি শয্যা, অর্থপেডিক্স বিভাগে ২৫টি শয্যা, নিউরো-সার্জারী বিভাগে ১৮টি শয্যা, ভাস্কুলার সার্জারীতে ৬টি শয্যা, ডায়ালাসিস বিভাগে ২৪ টির মধ্যে বর্তমান সচল আছে ২১৮টি শয্যা, ও আইসিইউ বিভাগে ১০টি,কেবিন ১৫টি। তবে এসব শয্যা অধিকাংশ রোগীরা যারা হাসপাতালটি চিকিৎসা নিচ্ছেন এসব রোগীদের নাম মাত্র খরচে আধুনিক চিকিৎসা সেব নিতে পারছে। তবে হাসপাতালটিতে ভর্তি হতে যে ভোগন্তি আর অপেক্ষায় থাকতে রোগী ও তার স্বজনদের এতে করে এতে অনেক রোগী সময় মত এসব সেবা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। আর যদি কোন রোগী বা তার স্বজনদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে তাদের জন্য বেসরকারী ভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন। এমনকি জনশ্রুতী আছে হাসপাতালটিতে ভর্তির জন্য অন্য রোগীর স্বজন অপেক্ষায় থাকে কখন অন্য রোগী মারা যাবে তাহলে অপেক্ষায় থাকার রোগী ভর্তি হতে পারবে। ভুক্তভোগী নেফ্রোলজি বিভাগের আলী নেওয়াজ নামে এক রোগীর স্বজন জানান গেল ১৫ দিন যাবৎ দিন এর বেশি সময় আগে আমরা হাসপাতালটিতে ভর্তির জন্য সিরিয়াল দিয়েছি। এছাড়া অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে পরিচালক সাহেবকে অবগত করলেও এখনও সুযােগ হয়নি হাসপাতালটি ভর্তির। এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন বলেন, বর্তমান সরকারীভাবে আধুনিকায়ন করা একটি হাসপাতাল হলো খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। আশপাশের অন্যান্য সরকারী হাসপাতাল থাকলেও অধিকাংশ রোগী আমাদের এই হাসপাতালে ভর্তির জন্য সিরিয়াল দিয়ে যায়। আমাদের শয্যা সংখ্যা সীমিত ২৫০ শয্যা কাগজ-কলমে লেখা থাকলেও আছে কম। আমরা রোগীদের ভর্তি সব সময় চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারিনা। অনেকে রাগ হয় তারপরও বিভিন্ন তদবীর আছে কার কথা কিভাবে রাখব। শয্যা দুটি খালি হলে সিরিয়াল থাকে ২০ টি। তবে আমরা ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য কোন সুপারিশ রাখছিনা। সব সিরিয়াল অনুযায়ী হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগীর চাপ আছে যে হাজার শয্যা দিলেও চাপ কমবে না।



