প্রতীক নিয়ে আজ প্রচারণার নামছেন প্রার্থীরা

খুলনায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৮ প্রার্থী
কে কোন প্রতীক পেলেন
সারাদেশে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭৩
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ৬ টি সংসদীয় আসনে ৩৮ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বুধবার সকালে প্রার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
এদিকে, প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।
প্রতীক বরাদ্দ : খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তাদের মধ্যে সম্মিলিত জাতীয় জোটের অর্ন্তগত বাংরাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী (দাড়ি পাল্লা), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির কিশোর কুমার রায় (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আবু সাঈদ (হাতপাখা), জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত (তারা), বিএনপির আমির এজাজ খান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রবীর গোপাল রায় (রকেট), বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল (দোয়াত কলম), স্বতন্ত্র অচ্যিন্ত কুমার মন্ডল (ঘোড়া), স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার (কলস) ও গণ অধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামান (ট্রাক) প্রতীক পেয়েছেন।
খুলনা -২ আসনে (সদর-সোনাডাঙ্গা) তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (দাড়ি পাল্লা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমানুল্লাহ (হাতপাখা) প্রতীক পেয়েছেন।
খুলনা-৩ আসনে (খালিশপুর-দৌলতপুর-আড়ংঘাটা) ১০জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আঃ আউয়াল (হাতপাখা), বিএনপির রকিবুল ইসলাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান (দাড়ি পাল্লা), স্বতন্ত্র মোঃ মুরাদ খান লিটন (ঘুড়ি), স্বতন্ত্র মঈন মোহাম্মাদ মায়াজ (ফুটবল), বাসদের জনার্দন দত্ত (মই), এনডিএম’র শেখ আরমান হোসেন (সিংহ), জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মোঃ আবুল হাসানত সিদ্দিক (জাহাজ) ও স্বতন্ত্র এস এম আরিফুর রহমান মিঠু (হরিণ) প্রতীক পেয়েছেন।
খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) চারজন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ (হাতপাখা), বিএনপির এস কে আজিজুল বারী (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র এস এম আজমল হোসেন (ফুটবল) প্রতীক পেয়েছেন।
খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গোলাম পরওয়ার (দাড়ি পাল্লা), বিএনপির মোহাম্মাদ আলী আসগার (ধানের শীষ), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীন (লাঙ্গল)।
খুলনা-৬ আসনে (কয়রা-পাইকগাছা) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আবুল কালাম আজাদ (দাড়ি পাল্লা), বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আছাদুল ফকির (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মন্ডল (কাস্তো) ও জাতীয় পার্টির মোঃ মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল) প্রতীক পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯৮টি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন। সারাদেশে ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোন আসনে কতজন প্রার্থী, তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা সংক্রান্ত ফরম-৫ পূরণ করে পাঠাবেন। সেই আলোকে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে।’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় আগামীকাল ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় : এ বিষয়ে ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ (তিন) সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করবেন।
ইসি’র কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ বাদে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল এবং ৭২৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন এবং আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফেরত পান ৪৩৭ জন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে সারাদেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।



