খুলনা-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের নতুন প্রত্যাশা

# নির্বাচনী মিছিলে বদলাচ্ছে পাড়া-মহল্লার ভাষা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা-৩ আসনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিল ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক মানুষের সমাগম। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর ও খুলনা-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরু গলি থেকে প্রধান সড়ক সবখানেই ছিল মানুষের সারি। নারী-পুরুষ, তরুণ-কিশোর, শ্রমিক, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে দেয়ানা এলাকা রূপ নেয় এক ব্যতিক্রমী জনসমাবেশে। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি এটি যেন হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কথা বলার উন্মুক্ত মঞ্চ। খুলনা-৩ এর পাড়া-মহল্লায় এই মিছিল যেন নতুন এক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে “ভোট মানে আমি, আমার পরিবার, আমার ভবিষ্যৎ।”
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর উপস্থিতি খুলনা অঞ্চলে সুপরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর প্রার্থিতা খুলনা-৩ আসনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষক ও সংগঠক হিসেবে ভোটারদের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন, যা কিছু ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
গণসংযোগ ও মিছিলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, দৌলতপুর থানা জামায়াতের আমীর মোশাররফ আনসারী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি ডা. সাইফুজ্জামান, সরকারি বি এল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, ছাত্রশিবিরের মহানগরীর প্রচার সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের বিএল কলেজ সভাপতি হযরত আলী, সেক্রেটারি হোসাইন আহমেদ, ৫নং ওয়ার্ড আমীর জাকিরুল ইসলাম, ৬ নং ওয়ার্ড আমীর আমিনুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ড আমীর মো. রেজাউল করীম, এডভোকেট এহসানুল হক, দৌলতপুর দক্ষিণ ছাত্রশিবির সভাপতি মাহি চৌধুরী, সেক্রেটারি আবরার, ছাত্রশিবির সরকারি বি এল কলেজ অফিস সম্পাদক আব্দুল্লাহ বুখারী, দৌলতপুর থানা কর্মপরিষদ সদস্য হাসানুজ্জামান, ছাত্রশিবির ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাশেম, ৫নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি খান মাহবুবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, শাহীন, চান্দু মিয়া, কৃষ্ণ, বিকাশ, সুজন, হেলাল, নাফিস, রনি, আব্দুল্লাহ, মামুন, ইস্তিয়াক, সেলিম, রানা, রাকিব, সাকিব, জাহিদ, হাসান, সিয়াম, ছাত্রশিবির সরকারি বি এল কলেজ প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাকিবুজ্জামান, ইস্তিয়াক আহমেদ, জাহিদ হাসান, রেদোয়ান, হাফিজ, শেখ রায়হান, হাফিজুর রহমান পিন্টু, খান লাভলু, খান মোস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ, শ্রী রাম, রনজীৎ, কৃষ্ণ, জাহিদুল ইসলাম, শাহীন, গাজী ওহিদুল ইসলামসহ বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগকালে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বিভিন্ন স্থানে থেমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা শোনেন। তিনি বলেন, “আমি ভোট চাই ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের হক আদায়ের দায়িত্ব নিতে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকা একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চান। উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তাঁর লক্ষ্য। উপস্থিত অনেকেই পানির সমস্যা, ড্রেনেজ, কর্মসংস্থান, মাদক ও কিশোর অপরাধের বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে প্রার্থী সমাধানের আশ্বাস দেন। অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, শ্রমিক ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন। তিনি আরও বলেন, দাড়িপাল্লার প্রার্থীরা ধর্মকে ব্যবসার পণ্য বানায় না; বরং ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ বদলাতে চায়।
এই গণমিছিলে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের সবাই দলীয় কর্মী নন। অনেকেই এসেছেন শুধু দেখার জন্য কিন্তু স্লোগান, কথা আর মানুষের ভিড় তাঁদের ভাবতে বাধ্য করেছে। গণসংযোগ শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় জনগণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। জনসমর্থনের এই ধারাবাহিকতায় নেতৃবৃন্দ দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন “ইনশাআল্লাহ খুলনা-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা জিতবেই।” এ ছাড়া ছাত্র, শ্রমিক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই কোনো দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকে কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন।



