যশোর কারাফটকে বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতাকে পাঁচ মিনিটের জন্য এনে শেষ দেখা করানো হলো মৃত স্ত্রী ও শিশু সন্তান কে, পাশাপাশি মা ও শিশুর দাফন

# প্যারোলে মুক্তি মেলেনি #
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের সাবেক ডাঙ্গা গ্রামে শনিবার রাত ১২ টার পরে বাড়ীর পাশেই জানাজা শেষে গৃহবধু কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিফ হোসেনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়। স্বজনদের আবেদনের পর প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না মিললেও, মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ ৬জন নিকট আত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়। সে সময় মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারাগারের ভেতরে ওই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিদায়। পরে মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাগেরহাটের গ্রামের বাড়িতে। রাতের আঁধারে জানাজা শেষে পাশাপাশি দুটি কবর খুঁড়ে মা ও শিশুকে দাফন করা হয়। এ সময় শোকস্তব্ধ পরিবেশে কান্না আর নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রসঙ্গতঃ গত ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আর শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বসতবাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, স্বামী কারাবন্ধি থাকায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে স্ত্রী স্বর্নালী শিশু সন্তান কে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্নালীর পিতাা রুহুল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে শনিবার রাতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।



