আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৬

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাগদা এলাকা থেকে দুই সহোদরসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই আকতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় নাম উল্লেখ করে ১৮ জন এবং অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয় জনই স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- উপজেলার কাটাবাড়ী গ্রামের সহোদর দুই ভাই নুরুজ্জামান (৩৫) ও মানিক মিয়া (২০), একই এলাকার হাবিবুর রহমান (৪০), সুজন মিয়া (৪২), সামিউল ইসলাম (২০) ও তাজুল ইসলাম (৩৫)। গতকাল সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, মূল অভিযুক্ত জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলাপকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন এবং পুলিশের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন- এসআই সেলিম রেজা, এসআই মীর কায়েস, এসআই মমিনুল ও কনস্টেবল হোসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, চেয়ারম্যান গোলাপ (৪৫) ১৪ বছর আগে জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা বিস্ফোরক দ্রব্য মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি মৃত জুলফিকার মাহমুদ খসরুর ছেলে। ঘটনার দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নুরুন্নবী প্রধানের ছেলে তাহারাত তানভীর প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।



