স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি মাদকদ্রব্যে ভাসছে গোটা উপজেলা প্রতিদিন কেনা-বেচা হয় কোটি টাকা

# অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে প্রয়োজন সেনাবাহিনীর অভিযান প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ #

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ দিঘলিয়া উপজেলায় অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। মাদকে ভাসছে গোটা উপজেলা। প্রতিদিন কমপক্ষে কোটি টাকার অস্ত্র ও মাদকের বেচা কেনা হয়। উঠতি বয়সের যুবকেরা মাদকের নেশায় চলে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে। দ্বীঘল দ্বীপে অস্ত্র ও মাদকের তিনজন ডিলার রয়েছে। যাদের অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে ভীতিসঞ্চার করেছে।তাদের সমর্থনে রয়েছে একটি বিশাল যুবসমাজ। যাদের সিংহভাগ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মাঝে মধ্যে পুলিশ ও নৌবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করলেও মুল কারিগরদের ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারেনি। এসব অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে প্রয়োজন সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, খুলনা শহর লাগোয়া নদী বেষ্টিত দিঘলিয়া উপজেলা এখন মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। ২৪’এর ৫ আগষ্টের পর অস্ত্র ও মাদকের ভয়াবহতা বহু অংশে বেড়েছে যা চোখে পড়ার মতো। হাত বাড়ালেই অবৈধ অস্ত্র-মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে অনায়াসে।
সুত্র জানায়, দিঘলিয়া উপজেলা নদীবেষ্টিত হওয়ায় অস্ত্রধারী অপরাধীদের অভায়রন্যে পরিণত হয়েছে।নদীবেষ্টিত উপজেলাটি খুলনা শহর, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, অভয়নগর, কালিয়া, তেরখাদা ও রূপসা উপজেলার একাংশ নদীর এপাড়- ওপাড়। সন্ত্রাসীরা অপরাধ সংঘটিত করে অভয়আশ্রম দিঘলিয়ায় প্রবেশ করে। নিরাপদ হওয়ার কারনে দিঘলিয়া উপজেলায় কতিপয় সন্ত্রাসীর কাছে অবৈধ অস্ত্র মজুদ রাখে। এখান থেকে অস্ত্র বেচ-কেনা হয় বলে সুত্রটি জানিয়েছেন।
সুত্র জানায়, ক্রসফায়ারে নিহত কুখ্যাত সন্ত্রাসী কেহেরম্যানের অবৈধ অস্ত্রগুলো কেহেরম্যানের বাড়ির সামনের এক কথিত সাংবাদিকের বাড়িতে রক্ষিত থাকতো।ওই পরিবারটির সাথে দহরমমহরম সম্পর্ক ছিলো। কেহেরম্যানের মৃত্যুর পরে ঐ সাংবাদিক আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ৫/৬ পরে মাঝে মধ্যে টুপ করে বাড়িতে এসে আবার চলে যেতো। গত ৫ আগষ্টের পরে তিনি এলাকায় এসে রাজনৈতিক ছায়া তলে থেকে বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া গত ২০২৪এর ০৬ আগষ্ট সেনহাটীতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র ঘাড়ে নিয়ে মিছিল হয়েছে। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সে সকল অস্ত্রধারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারিদের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুত্র জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্রধারীদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হবে।
অন্যদিকে উদীয়মান এক কথিত যুবনেতা গোটা সেনহাটী, দিঘলিয়া ও বারাকপুর ইউনিয়নের কিছু অংশের মাদক তিনি পাইকারি দরে নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকেন। প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বেশী মাদকদ্রব্য তিনি বিক্রয় করে থাকেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
দিঘলিয়া ইউনিয়নের পানিগাতী গ্রামের বহুল আলোচিত এক মাদক ব্যবসায়ী দিঘলিয়া ইউনিয়নের বাকি অংশ গুলো তিনি নিজ বাড়িতে বসে সরবরাহ করেন। মাঝে মধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও কিছু দিন পরে বেড়িয়ে এসে আবার শুরু করেন।
গাজীরহাট ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী পদধারী নেতা। যিনি বেশ কয়েক মাস আগে অস্ত্র ও গান পাউডারসহ সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। দিঘলিয়া ইউনিয়নের মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী কথিত সাংবাদিক গাজীরহাট ইউনিয়নে পদধারী ওই নেতার মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।গাজীরহাট ইউনিয়নে কথিত সাংবাদিক এবং ওই রাজনৈতিক নেতা মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button