তালায় মৎস্য ঘের দখল নিতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি ঃ তালার মাদরা গ্রামে তুষার কান্তি রায় নামের নিরিহ এক ব্যক্তির মাছের ঘের লুটপাট ও ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। ১০ বিঘার ওই মাছের ঘের জোর দখলের জন্য দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনসহ দফায় দফায় হুমকি প্রদান করছে বলে তুষার কান্তি রায় অভিযোগে বলেছেন।
উপজেলার মাদরা গ্রামের মৃত. কিরন চন্দ্র রায়ের ছেলে ভুক্তভোগী তুষার কান্তি রায় জানান, বাড়ির পাশের বিলের উক্ত জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ১০ বিঘা জমি স্ট্যাম্পে ডিড করে নিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে মাছ ও শবজি চাষাবাদ করে আসছেন। ইতোমধ্যে জমির মালিক সুলতান আহম্মেদ মারা গেলে তার ওয়ারেশরা প্রতিবছর হারির টাকা নিয়ে যান। কিন্তু বিগত ১ মাস ধরে মঙ্গলানন্দকাঠি গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের স্ত্রী বিএনপি নেত্রী আনজুয়ারা বেগমের নেতৃত্বে বহিরাগত ব্যক্তিরা এই ঘের অবৈধভাবে জোর দখলের চেষ্টা করে। এঘটনায় ন্যায় সঙ্গত বিচার পাবার জন্য সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন ১১১/২৬ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। সেমতে তালা থানা পুলিশ নোটিশ দিয়ে ঘেরের উপর শান্তি শৃঙ্খলাসহ স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তালা থানা পুলিশ নোটিশ জারী করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেত্রী আনজুয়ারা বেগম। বিজ্ঞ আদালত ও তালা থানা পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে আনজুয়ারা বেগম ও তার স্বামী আব্দুস সামাদ মল্লিকের নেতৃত্বে দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিয়ে ইতোমধ্যে ঘেরের বাসা, বেড়িবাঁধ, মেশিন ঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো ভাংচুর করে। একই সাথে ঘের থেকে বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ লুটপাট করে ৭/৮ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে দূর্বৃত্তরা বাড়িতে এসে খুন, জখম করাসহ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবার হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে বলা হয়। ঘের দখল চেষ্টা, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অব্যহত হুমকির মুখে নিরিহ তুষার কান্তি রায় ও তার পরিবার আতংকের মধ্যে রয়েছে।
এবিষয়ে বিএনপি নেত্রী আনজুয়ারা বেগম বলেন, তুষার কান্তি যার কাছ থেকে ঘেরের ডিড নিয়েছিলেন তিনি মারা গেছেন। তার সন্তানেরা এই ঘেরের জমি দেখভালের জন্য আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। তুষার কান্তির হারির টাকা প্রদান সন্তোষজনক না এবং জমি মালিকের সন্তানেরা তাকে আর জমি হারি দিতে চায়না। একারণে ওই জমিতে ধান চাষাবাদসহ সেখানে নিজেদের ঘের করা হবে।

