ইসলামী নীতিমালার আলোকে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটিয়ে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা হবে — মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

# কপিলমুনি বাজার মাঠে নির্বাচনী জনসভা #
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক এবং খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ইসলামী নীতিমালার আলোকে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটিয়ে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাজার ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
কপিলমুনি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং হরিঢালী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শেখ কামাল হোসেন, জেলা টিম সদস্য কাজী তামজিদ আলম, প্রফেসর আব্দুল মোমিন সানা, এডভোকেট আব্দুল মজিদ ও ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আবু জার আল গিফারী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান, নায়েবে আমীর বুলবুল আহমেদ, সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, বায়তুলমাল সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, পাইকগাছা পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর স. ম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা যাত্রাবাড়ী থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোস্তফা আল মাদানী, গাজীপুর মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কপিলমুনি বাজার শুধু মুসলমানদের নয়, হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ বাজারকে ঘিরেই হাজারো হিন্দু ব্যবসায়ী, কারিগর ও শ্রমজীবী মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার। তিনি বলেন, কপিলমুনি বাজারের পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুললে এ অঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পাইকগাছা-কয়রা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও শিল্পখাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সকালে কয়রা উপজেলা জামায়াত অফিস মাঠ প্রাঙ্গণে নির্বাচন কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির পরিচালকদের নিয়ে এক জনসভায় এবং পরে হরিঢালী ইউনিয়নে আয়োজিত মহিলা নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।



