খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চরম অব্যবস্থাপনা

# রোগী ভোগান্তি থামছে না #
খুমেক থেকে জাকিরুল ইসলাম (জাকির) ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত। অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো ব্যবহার না হওয়ায় এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগ ও গুরুতর রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইটিটি (ঊঞঞ) মেশিন হাসপাতালে থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে, যেখানে ইটিটি করাতে খরচ পড়ে ৪,০০০ (চার হাজার) টাকা, অথচ সরকারি খরচে এই পরীক্ষাটি করাতে লাগতো মাত্র ১ হাজার টাকা, সিটি স্ক্যানিং মেশিন থাকলে সেটাও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে, এতে বাড়ছে চিকিৎসা খরচ এবং সময়ের অপচয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে রোগী নিতে ট্রলি ব্যবহার করতে গেলেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সরকারিভাবে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।
এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় রয়েছে দালাল চক্র। তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিতে নিয়ে যেতে প্রভাব খাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং অপ্রয়োজনীয় খরচে পড়ছেন।
ইলিয়াস নামের একজন রোগীর স্বজন নাম বলেন, আমি কয়রা থেকে আমার বড় ভাইকে নিয়ে এসেছি ডাক্তার দেখাতে, কিন্তু এখানে বেশিরভাগ সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়েছে, যা করতে আমার প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা লেগেছে, অথচ এই সুবিধা সরকারি হাসপাতালে থাকলে অনেক উপকার হত, “সরকারি হাসপাতালে এসেও আমাদের সবকিছুর জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। ফাতেমা নামের একজন রোগীর স্বজন বলেন আমরা বাগেরহাট রামপাল থেকে এসেছি যখন আমার রোগী জরুরী বিভাগ থেকে ট্রলিতে করে ওয়ার্ডে নিয়ে আসে তখন ২০০ টাকা দাবি করা হয়,আমি ১০০ টাকা দিতে গেলে টাকা ছুঁড়ে ফেলে দেয়, দাউদ নামের একজন ভুক্তভোগী জানান ট্রলি থেকে শুরু করে পরীক্ষার সব জায়গায় দালাল আর অব্যবস্থাপনা।”
এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ করে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



