স্থানীয় সংবাদ

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ঘড়ি মার্কার প্রার্থী সাখাওয়াত হোসাইন বিপুল সমর্থনে এগিয়ে

# খুলনা-৪ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে #

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনা -৪ আসনের নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে। পাশাপাশি দিঘলিয়ার ভোটাররা অংক কষতে শুরু করেছে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে স্থানীয় নেতা কর্মীদের কৃতকর্মের। খুলনা-৪ আসনে মোট ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বিএনপির প্রার্থী এসকে আজিজুল বারী, জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহমেদ সেখ ও সতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন। নির্বাচনে মুল লড়াই হবে মুলতঃ বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত খেলাফত মজলিস প্রার্থীর মধ্যে। নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। ইতোমধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উপর ভয়ভীতি ও হামলার একাধিক অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ।
সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানা গেছে, খুলনা-৪ আসনটি গঠন করা হয়েছে রূপসা-তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে। মুসলিম লীগ অধ্যুষিত এ আসনটি দেশ স্বাধীনের পর থেকে অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আসনটি পুনঃ দখলে নেয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দল আটঘাট বেঁধে নেমেছে। তারা যে-কোন মূল্যে আসনটি ফিরিয়ে আনতে চায়। তাদের এ লক্ষ্য পুরণের দার প্রান্তে পৌঁছে গেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি মার্কা প্রতীকের প্রার্থী এস এম সাখাওয়াত হোসাইন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, বিএনপি প্রার্থী এস কে আজিজুল বারী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এস এম সাখাওয়াত হোসাইন রূপসা উপজেলার বাসিন্দা। উভয়ই এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। এরই মধ্যে এস এম সাখাওয়াত হোসাইন এর ছেলে যুবায়ের হোসাইন রূপসা উপজেলা পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রূপসা উপজেলায় খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। যুবায়ের হোসাইন এর ব্যক্তিগত ইমেজ ব্যাপক ভাবে কাজে লাগছে। সেক্ষেত্রে রূপসা উপজেলা বিএনপির ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। আইচগাতি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবু বক্কর শেখ বলেছেন, রূপসা উপজেলার ভোটাররা চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ থেকে দেশ মুক্ত হোক এটাই চায়। আমরা শেষ জীবনে এসে পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছি। এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাই না। পরিবর্তনের চাবি আমাদের হাতে। রূপসা উপজেলায় ধানের শীষ ও ঘড়ি প্রতিকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এবং লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
এদিকে তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক হিসাবে খ্যাত। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর থেকে ভোট ব্যাংকে আঘাত করতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, লুটপাট, হামলা-মামলায় জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়া। আওয়ামী লীগ এ সকল ঘটনায় বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
বারাসাত গ্রামের মোস্তাফিজ রহমান বলেছেন, ৫ আগষ্টের পর এলাকার শান্তি উধাও হয়ে যায়। এলাকার শান্তি ফেরাতে মানুষ একাট্টা হয়েছে। যেকোন মূল্যে ভোটের মাধ্যমে লুটেরাদের দমন করতে হবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা শাখার নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ কবিরুল ইসলাম তেরখাদা উপজেলার বাসিন্দা। খুলনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোট করায় আসনটি খেলাফত মজলিসের নায়েব আমীর এস এম সাখাওয়াত হোসাইনকে মনোনয়ন দেয়। অধ্যক্ষ কবিরুল ইসলাম তেরখাদা উপজেলায় একজন সর্বজন গ্রহণ যোগ্য আলেমে দ্বীন ও জনপ্রিয় নেতা। তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। অধ্যক্ষ কবিরুল ইসলাম নির্বাচনকে তেরখাদায় চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এর সাথে থেকে তেরোখাদার অলিগলিতে গণসংযোগ, উটান বৈঠক, ভোটার সমাবেশে উপস্থিত থেকে দেয়ালঘড়ি প্রতীকের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তেরখাদায় ১১ দলীয় জোটের ঘড়ি মার্কার প্রার্থী এস এম সাখাওয়াত হোসাইন তেরখাদা উপজেলায় বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
দিঘলিয়া উপজেলায় বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভোটের হিসাবে সামান্য হেরফের হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়ে আওয়ামীলীগ সামান্য ভোটে জয়লাভ করে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে দিঘলিয়া উপজেলা ভোট রেটিংয়ে এক ভিন্নতা দেখতে পাবে এ জনপদের মানুষ। ২৪-এর ৫ আগষ্টের পর থেকে উলঙ্গভাবে একটি মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সংঘবদ্ধ দল উপজেলাটিতে লোকজনের ঘরবাড়ি, ব্যবসা বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাংচুর লুটপাট, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়রানিতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এসবের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে প্রস্তুত রয়েছে সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মানে লুটপাট, চাঁদাবাজী? একটা হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে কোলা এলাকার শতাধিক মানুষের আশ্রয়াস্থল ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের জানালা-দরজা খুলে নেওয়া হয়েছিল। ঘরের থেকে সোনাদানা, টাকাকড়ি, ধানচাল লুটপাট করা হয়েছিল। গাজীরহাটে এখনও অনেক লোক আবাস ছাড়া। সেদিন কি দোষ করেছিল ঐসব বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মহিলা ও শিশুরা। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অনেক বৃদ্ধ ও শিশু বিনা চিকিৎসায় প্রাণ দিতে হয়েছে। সময় এসেছে তাদের সমুচিত জবাব দেওয়ার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লোক বলেছেন, ৫ আগষ্টের পর বিএনপির নৈরাজ্য ‘৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাদেরকে ভোট দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। সেক্ষেত্রে খেলাফত মজলিসের নায়েবি আমীর এস এম সাখাওয়াত হোসাইন একজন আলেম ও সর্বজন গ্রহণ যোগ্য মানুষে ভোট দেয়া শ্রেয়।
হাজীগ্রামের বাসিন্দা সরদার আবুল হোসেন বলেন, রাজাকার বইলে আমাগে আর ভুগোল পড়াতি পারবে নানে। আমরা আর সন্ত্রাস দেখতি চাচ্ছি না।
নাম না প্রকাশের শর্তে জনৈক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান, অতি সম্প্রতি এক নেতার হুমকি ধামকিতে ও নিরব ও গোপন চাঁদাবাজিতে অনেকের ব্যবসা লাটে উঠেছে। নিগৃহীত হয়েছে অনেকে। মিথ্যা মামলায় পানিগাতী গ্রামের জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঢের।
সব মিলিয়ে খুলনা-৪ আসনে ভোটের লড়াইয়ে খেলাফত মজলিসের ঘড়ি মার্কার প্রার্থী এস এম সাখাওয়াত হোসাইন ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button