কয়রায় ভুয়া এজেন্ট সেজে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান : ১২ জনের জেল-জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে লাঙল প্রতীকের ভুয়া পোলিং এজেন্ট সেজে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করায় ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কয়রা মদিনাবাদ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন, কাটমারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ৪ জন ও দেয়াড়া অন্তাবুনিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ৬ জনকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়। তবে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
এর মধ্যে কয়রা উপজেলার কাটমারচর গ্রামের ইস্তিহার উদ্দীনকে ২ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় মদিনাবাদ গ্রামের তাসলিমা খাতুন ও একই গ্রামের আব্দুল গফফারকে ১৫ দিন এবং কাটমারচর গ্রামের আমিরুল ইসলাম ঢালী, একই গ্রামের রোকনুজ্জামান ও উত্তর বেদকাশি গ্রামের ইলিয়াস হোসেনকে এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। দেয়াড়া অন্তাবুনিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আটককৃত ছয়জনের প্রত্যেক দুই বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
ঘটনা জানার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে লাঙল প্রতীকের ভুয়া পোলিং এজেন্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা।
দেয়াড়া অন্তাবুনিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নিত্যানন্দ সরকার জানান, লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তারা পোলিং এজেন্ট সেজে ভোটকক্ষে থাকেন। জানতে পারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদেরকে হেফাজতে নেয়। পরে ছয়জনের প্রত্যেককে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে তাদের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
কাটমারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শংকর কুমার জানান, লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তারা পোলিং এজেন্ট সেজে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন। ঘটনা জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে লাঙল প্রতীকের ছয় জন এজেন্ট ছিল। দুপুরের পর থেকে ৪ জনকে পাওয়া যায়নি। বিকাল সাড়ে ৩টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে দুই জনকে আটক করে। পরে তাদেরকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, তার স্বাক্ষর জাল করে কয়রা উপজেলার ৬৭টি ভোট কেন্দ্রে ভুয়া পোলিং এজেন্ট দিয়েছে একটি পক্ষ। আমাদের এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনা জানার পর অভিযোগ করেন। পরে এসব ভুয়া এজেন্টদের কয়েকজন আটক হয়েছে এবং বাকিরা পালিয়ে গেছে।
খুলনা-৬ আসনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানিয়েছেন, একটি পক্ষ লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করেছে। খবর পেয়ে কয়েকজনকে আটকের পর নির্বাহী আদালতে পাঠানো হয়। এর সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন মনিরুল হাসান বাপ্পি (বিএনপি), আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত), মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গির (জাতীয় পার্টি), প্রশান্ত কুমার মন্ডল (সিপিবি) ও আছাদুল্লাহ ফকির (ইশা আন্দোলন)।
