খেজুরের রসের থেকে গুড়ের দাম কম আসল আর ভেজাল গুড় নিয়ে ক্রেতারা হতাশ

শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনায় হাট বাজার সহ পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্ম্যমান ভাবে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল খেজুরের গুড়। সাইকেল বা ঝুড়িতে মাটির তৈরি গুড়ের ঠিলা নিয়ে বাড়ী বাড়ী যেয়ে নরম বা পাটালি গুড় বিক্রি করছে ব্যবসায়িরা। তবে এসব গুড়ে খেজুরের রসের ঘ্রান থাকলেও এগুলো আসল খেজুরের গুড় না সবই ভেজাল গুড়। এ নিয়ে এক প্রকার হতাশ ক্রেতারা। খুলনা সহ আশেপাশের জেলায় খেজুর গাছ হরহামেশা দেখা গেলেও খেজুর গাছ কাটার জন্য কারিগরের অভাবে অধিকাংশ খেজুর গাছে কাটাতে পারিনি মহাজনেরা। যে কারণে এখন খেজুরের রসের চাহিদা বেড়েছে। শীতের মৌসুমে বাড়ী বাড়ী শীতের পিঠা তৈরিতে প্রয়োজন খেজুরের গুড়। এছাড়া বিভিন্ন খাবারে খেজুরের গুড়ের মিশ্রণে স্বাদ অতুলনীয়। আর এই সুযোগে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ি তৈরি করছে ভেজাল গুড়। এই ভেজাল গুড় গুলো ছড়িয়ে পড়ছে খুলনার পাড়া-মহল্লায়। এছাড়া প্রতি ঠিলা খেজুরের রসের দাম এখন ৩৫০ টাকা টাকা করে বিক্রি হচ্ছে । এদিকে খেজুরের রসের উৎপাদনের থেকে বেশি রয়েছে রসের চাহিদা। যেকারণে খেজুর গাছের কারিগরে সাথে কথা বলে আগাম টাকা দিয়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করার পর মেলে কাঙ্খিত খেজুরের রস। এদিকে সরেজমিনে দেখা যায় খালিশপুর গোয়ালখালী এলাকায় সাইকেলে করে মাটির ঠিলার মধ্যে খেজুরের গুড় বিক্রি করছেন ভ্রাম্ম্যমান গুড় ব্যবসায়ি মো. আজিমউদ্দিন খেজুরের গুড়ের কেজি ২২০ টাকা দাবি করলেও তিনি ২০০ টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয় এমনকি চাপাচাপি করলে আরও কম দামে বিক্রি করবে। তবে এসব মাটির পাত্রে গুড় থাকলেও এগুলো আসল খেজুরের গুড় না। এক পর্যায়ে অন্য এক ক্রেতার সাথে বাকবিতন্ডা তৈরি হয় তার সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তিনি সত্যিই কথা শিকার বলেন, আমার খেজুরের গুড় ভালো কোন ভেজাল না। তবে ব্যবসায়িরা আছে যারা নষ্ট চিনি দিয়ে তৈরি করে খেজুরের গুড়। আমাদের বাড়ী চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর এলাকায়। খুলনায় ১৫ থেকে ২০জনের একটি দল রয়েছে। যারা সারাদিন গ্রামের পাড়া মহল্লায় গুড় বিক্রি করে। আর রাত্রের বেলায় দৌলতপুর কাচাবাজারে ঘুমায়। এছাড়া গুড় বিক্রি শেষ হলে ফোন করলে ট্রেনে করে এই গুড় খুলনায় পাঠিয়ে দেয় ব্যবসায়িরা। আমরা বাড়ী বাড়ী যেয়ে এই গুড় বিক্রি করি। আমরা এসব উৎপাদিত গুড়ের কারখানা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করি। আর এর থেকে সামান্য কিছু মুনাফা নিয়ে আমরা বিক্রি করছি। আমরা কোন ভেজাল গুড় বিক্রি করছিনা। তবে বর্তমানে কতিপয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ি খেজুরের রস জ¦ালিয়ে যখন একটু রং পরিবর্তন হয় ঠিক তখনই চিনি দেয়া হয়। এছাড়াও ফিটকেরি, ডালডা ও চুন সহ কিছু উপাদান দেয়া হয়। দশ ঠিলা রস দিয়ে আট ঠিলা গুড় তৈরি হয়। এছাড়া এই গুড় খেয়ে কেউ বুঝবেনা যে নকল খেজুরের গুড় যতক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষা না করা হয়। এমনকি ব্যবহৃত মিষ্টির রস দিয়ে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করছে গুড়। এ বিষয়ে কথা হয় সচেতন নাগরিক ও চিকিৎসক লিয়া খাতুনের সাথে তিনি বলেন, এক সময়ে গ্রামে মা-চাচিরা তাফালে খেজুরের গুড় জ¦ালিয়ে এধরনের ভেজাল রস জ¦ালিয়ে তৈরি করত গুড়। আমরা এসব গুড় খাওয়ার পর জিহ্বায় আঠার মত লেগে থাকতো। তবে, এখন যে হারে ভেজাল ভাবে তৈরি করছে গুড় এসব গুড় খেলে শরিরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। এর কারণে দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যা হতে পারে বমি ববি ভাব, বদ হজমসহ গ্যাস্ট্রলজির সমস্যা হয় এগুলো শরিরের জন্য মারত্মক ক্ষতিকর।



