স্থানীয় সংবাদ

মাহে রমজানের শুরুতেই খুলনার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমুখি : ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

রমজানের অতি জরুরি ফল খেঁজুর নিয়েই তেলেসমাতি

# দাম বাড়তি মাছ, মাংস, ইফতার সামগ্রীসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের, সংকট বস্তা খেজুর #
# ক্ষুব্ধ ক্রেতারা জানিয়েছেন : রমজান আসলেই এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট শুরু করে, বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি #
# ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন : যেভাবে কেনা তা হতে সামান্য লাভে বিক্রি করছি, হুশিয়ারী ভোক্তা কর্তৃপক্ষের #

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ মহিমান্বিত, বরকতময়, সংযম ও ধৈর্য, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক প্রশিক্ষনের মাস রমজানুল মুবারক। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সু-সংবাদ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) হতে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। সেনুসারে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) রাত থেকে মুসলিম উম্মাহর ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তারাবীহ্ ও সেহ্রীর মধ্যে দিয়ে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ফরজ হুকুম মাহে রমজান শুরু হয়েছে। যে কারনে সেহরী ও ইফতারকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে খুলনা নগরীর পাইকারী ও খুচরা নিত্যপণ্যে বাজার সমূহে সর্বস্তরের ক্রেতা সমাগম ঘটছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) দিনজুড়ে নগরীর বাজার সমূহে নিত্যপণ্যে ও ইফতার সামগ্রী কিনতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো মাহে রমজান শুরু হতে না হতে খুলনা নগরীর বাজার সমূহে গত ২/৩ দিন ও সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যে দাম উর্ধ্বমুখি হতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ সর্বস্তরের ক্রেতা সাধারনের। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমুখি হওয়ার দরুন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
ক্ষুব্ধ ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। বিশে^র অন্যান্য মুসলিম দেশ সূমহে রমজান মাসে বিশেষ নিত্যপণ্যে বাজার শিথিল রাখার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেয়। সেখানে আমাদের দেশ সম্পূর্ন বিপরীতে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের চিরচারিত অভ্যাস, বিশেষ করে একটি অসাধু ব্যবসায়ী মহল সারা মাস ধরে বসে থাকে কবে রমজান মাস আসছে। তারা রমজানকে ঘিরে সিন্ডিকেট করে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করবে। আর যাদের এ বিষয়গুলো দেখার কথা তারা তাদের দায়িত্ব খাতা-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে, রমজানের শুরুতে দু’চারটি নাম মাত্র অভিযান ও জরিমানা করে দায়িত্ব শেষ করবে। তাদের উচিৎ যারা সিন্ডিকেট করে রমজান মাসে জিনিস-পত্রের দাম হুহু করে বাড়িয়ে দেয়। আমাদের উচিত ওই সিন্ডিকেট গভীরে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলা। যারা বাজার তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাদের থেকে কি সিন্ডিকেট শক্তিশালী? ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের বিপরীতে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, গোটা দেশের জেলা-শহর ও মোকামসহ স্থানীয় এলাকা হতে আমরা যে দামে পণ্যে সরবরাহ করি, খরচ-খরচা বাদে সামান্য লাভে বিক্রি করি। কিছু পণ্য বাড়তি দামে কেনা লাগছে।
নাগরিক নেতারা বলছেন, রমজান আসলেই একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা সিন্ডিকেট করে বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। যারা বাজার মনিটরিং করে থাকেন তাদের উচিৎ সিন্ডিকেট চক্রের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছানো এবং শেকড় থেকে তা উপড়ে ফেলা। পৃথিবীর অন্য দেশগুলো রমজান এলে দাম কমে, এদেশে তার বিপরীত রমজান এলে দাম বাড়ে। বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ বলছেন, প্রতিদিনই একাধীক টিম খুলনা বাজার মনিটরিং করছে। নিয়মবর্হিভূত ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে। রমজানকে ঘিরে কোনো অজুহাতে যদি কোনো ব্যবসা ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে থাকে, তাদের ব্যাপারে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) দিনজুড়ে খুলনা মহানগরীর নিত্যপণ্যের বাজার সমূহে ঘুরে ২/৩ দিন ও সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় নিত্যেপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংস বাজারে গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি হতে একলাফে ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ীরা হাটে গরু কম, দাম বেশি এবং খাবারের দাম বেশির অজুহাত খাড়া করেছেন। খাশির মাংস ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মুরগীর বাজারে ৩/৪ দিনের ব্যবধানে ১৭০ টাকা কেজি দরের বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা দরে। কেজিতে ২০/৩০ টাক বৃদ্ধি পেয়েছে বেড়েছে কক, সোনালী ও লেয়ার মুরগির দাম। কক প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-২৯০ টাকায়, সোনালী ২৮০-৩০০ টাকায় কেজি দরে, লেয়ার (লাল) ৩০০ টাকা ও লেয়ার (সাদা) ২৮০-২৯০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাবারের দাম বৃদ্ধির কারনে, খামারীরা মুরগী পালনে আগ্রহ হারাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ। খামার পর্যায়ে মুরগীর দাম বৃদ্ধি পয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
মাছ বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় প্রতিটি দেশী ও সামুদ্রিক মাছের। ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫০০-৩৬০০’শ টাকা দরে, ৮’শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৮০০’শ -৩ হাজার টাকা দরে, ৬’শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২২০০-২৪০০’শ টাকা দরে এবং ঝাটকা ৭০০-৮০০’শ টাকা দরে। এছাড়া রুই (বড়) প্রতিকেজি ৪৫০-৫০০ টাকা, ছোট ৩৫০-৪০০ টাকা, কাতলা (বড়) ৫৫০-৬০০ টাকা, ছোট ৩৫০-৪০০ টাকা, পাতারী (বড়) ৯০০-১০০০ টাকা, ছোট ৮৫০-৯০০ টাকা, টেংরা ৫৫০-৬০০ টাকা, পাবদা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাংগাস ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ডিমের বাজারে ১/২ দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে লাল ডিম (বড়) ৯-১০ টাকা এবং সাদা (বড়) ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮-৯ টাকা দরে। চাল বাজারে মোটা চাল মানভেদে ৪২-৪৪ টাকা, স্বর্না মানভেদে ৪৬-৪৮ টাকা, ২৮ বালাম মানভেদে ৫০-৫৬ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬২-৭৬ টাকা, বাশমতি মানভেদে ৭৮-৮৪ টাকা, নাজিরশাল মানভেদে ৭৬-৮৪ টাকা ও পোলাও চাল ১১০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পোলাও চাল কেজিতে ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। খুচরা সবজি বাজারে ২/৩ দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০/১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুলকপি প্রতিকেজি ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, টমেটো ৪৫-৫০ টাকা, পাতা কপি ২০ টাকা, ঝিঙে ১২০ টাকা, কুশি ১০০ টাকা, বরবটি সীম ১২০ টাকা, ওলকপি ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লালশাক ৩০ টাকা, সীম ৪০ টাকা, ঘি-কাঞ্চন শাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ঘিরাই, শষা, কাঁচা ঝাল ও লেবুর দাম । একলাফে ৫০ টাকা ঘিরাই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার শষা এক লাফে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাঝাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে। পাইকারী বাজারের তুলনায় খুচরা মসলা বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে পেয়াজ ও রসুনের দাম। পাইকারী বাজারে পেয়াজ (নতুন) মানভেদে ৪২-৪৬ টাকা, রসুন (নতুন) ৯৫-১০০ টাকা এবং আলু ৮ কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা মসলা বাজারে প্রতিকেজি পেয়াজ ৫০ টাকা, রসুন (নতুন) ১২০ টাকা, পুরাতন টাকা, আলু ৬ কেজি ১০০ টাকা, মুশরী ডাল (দেশি) দাম বেড়ে ১৬৫-১৭০ টাকা , একই দামে মুশরী (মোটা) ৭৫-৮০ টাকা, সয়াবিন তেল খোলা বাজারে প্রতিকেজি ১৯৫-১৯৬ টাকা, পাম অয়েল খোলা বাজারে ১৬৫-১৬৭ টাকা, সয়াবিন (বোতলজাত ৫ লি:) ৯৫০ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও ১ লিটার ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতার সামগ্রী হিসাবে চিনি দাম বেড়ে ১০০-১০৫ টাকা , ছোলা ৮০-৮৫ টাকা, বেসন (ছোলা) ১২০ টাকা, বেসন (বুট) ৭০ টাকা, মুড়ি (বরিশাল) প্রতি কেজি টাকা ১২০ টাকা, মুড়ি (হাতে ভাজা) ১০০ টাকা ও মুড়ি (মেশিন) ৮০ টাকা, চিড়া ৬০-৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফল বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে খেজুর ও অন্যান্য ফলের। ব্যবসায়ীরা বলছেন গত বছরের তুলনায় এবছর কেজি প্রতি প্রতিটি খেজুরে ১৫০-২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চাহিদার তুলনায় বস্তা খেজুর কম আমদানী হাওয়ার দরুন
বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ফলব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা বলছেন, প্রতিটি জাতের খেজুরের দাম গত বছর থেকে বহুগুণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সিন্ডিকেট করে খেজুরের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। ফলবাজারে খেজুর মরিয়ম (কলমি) প্রতিকেজি ১০০০ টাকা, মামরুম ৬০০ টাকা, বড়ই ৬০০ টাকা, মিটজল ১৪০০ টাকা, জিহাদ খেজুর ৩০০ টাকা, ডাল খেজুর ৬০০ টাকা, ফরিদা খেজুর ৫০০ টাকা ও শুককারি খেজুর ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচেছ বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর বাজার ফল ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলী। এছাড়া খুলনার নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য ফলে মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে মরিয়ম খেজুর ১২৫০, মিটজুল জাতভেদে ১২০০-১৭০০, মামরুম ৮০০-১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আপেল ফুজি ৩৫০-৩৮০ টাকা, হানি ৩০০-৩২০ টাকা, মালটা ৩২০-৩৫০ টাকা, কমলা (চায়না) ৩৫০-৩৮০ টাকা, আঙুর (কালো ৫৫০-৬০০ টাকা), সাদা ৪৫০-৫০০ টাকা, বেদানা (ছোট দানা) ৪০০-৪২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে, মাহে রমজানকে ঘিরে সেহরী ও ইফতারীর কেনাকাটার জন্য বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) গোটা দিনুজড়ে ছিল নগরীর নিউমার্কেট, জোড়াকল, সন্ধ্যাবাজার, বৈকালি, বয়রা, খালিশপুর, রুপসা, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনিসহ স্থানীয় এলাকার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের কাংক্ষিত সাড়া। এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা রমজানকে উপলক্ষ্য নিত্যপণ্যে সামগ্রী কিনতে উপচেপড়া ভীড় করছেন। ক্রেতা সাড়া পেয়ে ব্যবসায়ীও দারুন খুশি। তবে, দুঃখ জনক বিষয় মাহে রমজান শুরু হতে না হতে খুলনা নগরীর বাজার সমূহে গত ২/৩ দিন ও সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যে দাম উর্ধ্বমুখি হতে শুরু করেছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম উর্ধ্বমুখি হওয়ার দরুন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। ক্রেতা সিন্ধা রহমান জানান, রমজান শুরু হওয়া পারলো না, এর মধ্যে বাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার গরুর মাংস কিনলাম ৭০০ টাকা করে সেই মাংস গতকাল ৭৫০ টাকা করে বিক্রি করছে। এছাড়া মাছের দামও অনেক বেশি। ইলিশ কিনতে গেলাম দাম শুনে আর দাম বলতে পারলাম না। বাইরের দেশগুলোতে রমজান আসলে জিনিসপত্রের দাম কমে যায়, আর আমাদের দেশে রমজান এলেই একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ। ক্রেতা তাসনিমুর রহমান জানান, রমজানের ইফতার ও সেহরীর জন্য বাজার করতে এলাম। প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়তি। ২/৩ দিন আগে খিরাই ছিল ৫০ টাকা কেজি সেই খিরাই বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায় । তাছাড়া বেড়েছে প্রতিটি সবজির দামও। কোন দেশে বাস করি আমরা।
রিক্সা চালক হাফিজুল জানান, রিক্সা চালায় তবুও রোজা ছাড়ি না। সেহরীর জন্য মুরগী কিনতে এলাম। গত সপ্তাহ বয়লার ছিল ১৭০ টাকা, সেই বয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা কেজি। গরীবেরা কি করবে, কি খেয়ে রোজা থাকবে। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে।
ক্রেতা সালাউদ্দিন জানান, বাজারে কোন জিনিসটার দাম না বেশি। ইফতারির সময় খেজুর খেতে হয়, এটা সুন্নাত। গতবছর খেজুরের যে দাম ছিল, তা হতে বহুগুনে খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর বস্তার খেজুর ১৫০-২০০ টাকা কেজি কিনেছিলাম, এবার তা এবার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রোজার মাসে যেন ব্যবসায়ীদের ডাকাতি আরো বেড়ে যায়।
মাছ ব্যবসায়ী আঃ বারেক জানান, পাইকারী বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। দাম বাড়তি। যে কারনে বড় ইলিশ কিনি নাই। ঝাটকা ও দেশি মাছ কিনেছি। যে দামে কিনেছি, তা থেকে খরচ-খরচা বাদে সামান্য লাভে বিক্রি করছি। গরুর মাংস বিক্রেতা রহমত জানান, হাটে গরু কম। তাছাড়া খাবারের দাম বাড়তির কারনে গরুর মহাজনরা গরুর দাম বাড়তি যাচ্ছে। যে কারনে কয়েকদিন আগে ৭০০ টাকায় মাংস বিক্রি করলেও বর্তমানে ৭৫০ টাকা নিচে বিক্রি করতে পারছি না।
মুরগী বিক্রেতা নয়ন জানান, খামারীরা জানিয়ে খাবারের দাম অনেক বেশি। তাছাড়া পোল্ট্রিখাতের ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখছে না। খামারে বয়লার, কক, সোনালী ও লেয়ারের দাম কয়েকদিনের তুলনায় বাড়তি রাখছে। আমরা যে দামে কিনি, তা হতে সামান্য লাভে বিক্রি করি। চাল ব্যবসায়ী শাহিন ব্যাপারী জানান, মিনিকেট, স্বর্না, মোটা, ২৮ বালাম, নাজিরশাল, বাশমতির দাম স্বাভাবিক আছে, তবে পোলাও চালের কেজিতে ১৫-২০ বেড়েছে। ফল ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলী জানান, চাহিদার তুলনায় বস্তা খেজুর কম আমদানি হওয়ার দরুন সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গত বছরের তুলনায় এবছর প্রতিটি খেজুরে ১৫০-২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যে দামে পাইকারী বাজার থেকে কিনি, সামান্য লাভে বিক্রি করি।
এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’এর খুলনা মহানগর সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, নাগরিক নেতারা বলছেন, রমজান আসলেই একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা সিন্ডিকেট করে বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। যারা বাজার মনিটরিং করে থাকেন তাদের উচিৎ সিন্ডিকেট চক্রের গোড়দার পর্যন্ত পৌঁছানো এবং শেড়ক থেকে তা উপড়ে ফেলা। পৃথিবীর অন্য দেশগুলো রমজান এলে দাম কমে, এদেশে তার বিপরীত রমজান এলে দাম বাড়ে। ১৭ ফেব্রুয়ারী যে নতুন সরকার গঠন হলো এ সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা, এটা করতে পারলে নতুন সরকারের প্রতি জনগনের আস্থা বাড়বে। বিশেষ করে তাদের এ চ্যালেঞ্জকে রমজান মাসেই মোকাবেলা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে ভোক্তা-অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, প্রতিদিনই একাধীক টিম খুলনা বাজার মনিটরিং করছে। নিয়মবর্হিভূত ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে। রমজানকে ঘিরে কোনো অজুহাতে যদি কোনো ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করে থাকে বা নিয়মবর্হিভূত ব্যবসায়ীক কর্মকা- পরিচালনা করে থাকে, তাদের ব্যাপারে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার জানান, রমজানকে ঘিরে কোনো সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলে তা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া হবে, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button