রূপসা থানার সাবেক ওসি মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রূপসা থানায় সদ্য বদলী হওয়া ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষোভ মিটাতে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা হেলাল নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা (১৭ ফেব্রুয়ারি) মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি’স কমপ্লেইন মনিটরিং সেল পুলিশ হেডকোয়ার্টাসর্) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রূপসার কর্ণপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মোহাম্মদ আলী নামে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে খুলনা কোট পর্যন্ত নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর এলাকার হাফেজ ফজলুল করিমের ছেলে আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা হেলাল প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে বলেন স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ছত্রছায়ায় রূপসা থানায় মাদক বিক্রি হচ্ছে। এ কারনেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে পুলিশ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে হেলালের নামে মিথ্যা মামলা করে। যার মামলা নং, ৯১/২৫। উক্ত মামলায় তিনি আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। রি-কল নিয়ে আদালত থেকে বের হলে ভুক্তভোগী হেলালকে আদালত চত্বর থেকে বিনা ওয়ারেন্টে আবারও গ্রেফতার করা হয়। এমনকি পুলিশকে রি-কল দেখানো হলেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে মটর সাইকেলে করে থানায় নিয়ে যায়। এর আগে হেলালের নামে ২টি চেক ডিজ অনার মামলা থাকলেও ওই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন।
মটরসাইকেল থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সময় তার বাম পায়ের হাটুর জয়েন্ট খুলে যায়। পরে থানায় নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মত চরমভাবে নির্যাতন করা হয়। ওসির ব্যক্তিগত ক্ষোভ মিটানোর জন্য সারারাত হেলালকে নির্যাতন করে বাম হাতের কব্জি ও বাম পায়ের হাটু ভেঙ্গে দেওয়া হলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। হয়নি খাবার দেওয়াও। বাসা থেকে খাবার পাঠালে তাও খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে গ্রামে এবং কোর্টে চালান দেওয়ার পথে গাড়ী থেকে নামিয়ে বাজারের মধ্যে রশি দিয়ে বেঁধে ঘুরানো হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে ছবি তুলে ফেস বুক এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদও প্রচার করানো হয়। এভাবে তাকে ১৩৮ ধারার দুইটি মামলার জামিনের রি-কল জমা দেওয়া সত্ত্বেও সেই মামলা এবং হেলালের ভাইয়ের মামলাসহ ৩টি মামলায় তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওসি মাহফুজ রূপসা থানায় থাকাকালীন এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও মাদক ব্যবসা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। কোন আওয়ামীলীগের নেতা বা দোসরদের গ্রেফতার না করে তাদের পৃষ্টপোষকতা করেন। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার, অত্যাচার নিপীড়ন করেছে বেশী, সরকার ঘোষিত মাদক নির্মূল অভিযানে কোন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেনি। তিনি রূপসা খানায় আসার পর ২২টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। সব কয়টি হত্যাকান্ড মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত। সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি খুলনা আদালতের সম্মুখে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়িও রূপসা থানায় এবং খুনের নেপথ্যে ছিল মাদক ব্যবসা।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মানিক হত্যার মুল আসামীদেরকে গ্রেফতার না করে রূপসা থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নির্দোষ মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। হেলালের ভাই বিএনপি নেতা নুরুল্লাহকে বিদ্যুৎ এর মিমাংসিত মামলায় গত বছরের ১৬ জুন গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ।
এমনকি খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হলে পুলিশের চিরুনী অভিযানের ফলে নদী পার হয়ে সন্ত্রাসীরা রূপসা থানায় আশ্রয় নেই এবং এই ওসি মাহফুজের ছত্র-ছায়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওসি মাহফুজ নারায়ণগঞ্জ থাকাকালীন তার অতিত কার্যকলাপের ইতিহাস লোমহর্ষক। তিনি নারায়নগঞ্জের মাফিয়া ডন শামিম ওসমানের একজন ঘনিষ্ট সহযোগী। বহু নিরীহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের দমন ও নিপীড়ন করেছেন। জুলাই বিপ্লব দমনে তার সক্রিয় হিংসাত্মক ভূমিকা ছিল। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এই আওয়ামী ওসি মাহফুজ কর্তৃক অপরাধের ঘটনা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী হেলাল বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন তিনি ১৬টি বছর পুলিশ কর্তৃক নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পরেও বিনা দোষে এই অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়াটা তার জীবনের সবচেয়ে বেদনা দায়ক। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বদলী হওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।



