স্থানীয় সংবাদ

স্বাস্থ্য সচেতনতা

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সিনকোপ বলা হয়, অনেক সময় সাধারণ কারণেও হতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত গরম, ভয় বা মানসিক চাপের কারণে এমনটি দেখা যায়। তবে সব অজ্ঞান হওয়া নিরীহ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, মারাত্মক সংক্রমণ বা মস্তিষ্কের সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই ঘটনাটি যত ছোটই মনে হোক, গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। ধরুন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। চারপাশে হৈচৈ শুরু হলো। কেউ পানি ছিটাচ্ছেন, কেউ জোরে ঝাঁকাচ্ছেন। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কী? প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। আতঙ্ক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। রোগীকে দ্রুত নিরাপদ ও সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন। সম্ভব হলে পা দুটো শরীরের চেয়ে সামান্য উঁচু করে দিন। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়তে সাহায্য করে। শক্ত বা আঁটসাঁট পোশাক যেমন বেল্ট, কলার, স্কার্ফ ঢিলা করে দিন যাতে শ্বাস নিতে অসুবিধা না হয়। অনেকে ভুল করে অজ্ঞান ব্যক্তির মুখে পানি ঢালেন বা কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এটি বিপজ্জনক। জ্ঞান না ফিরলে গলায় পানি বা খাবার ঢুকে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই জ্ঞান না আসা পর্যন্ত মুখে কিছু দেবেন না।
এরপর খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় পরীক্ষা করতে হবে, শ্বাস ও নাড়ি। বুক ওঠানামা করছে কি না দেখুন। নাকের কাছে মুখ এনে শ্বাস অনুভব করার চেষ্টা করুন। যদি শ্বাস না থাকে এবং আপনি প্রশিক্ষিত হন, তবে সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করুন। প্রশিক্ষণ না থাকলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন এবং আশেপাশে প্রশিক্ষিত কেউ আছেন কি না দেখুন। যদি শ্বাস থাকে, তবে রোগীকে পাশ ফিরিয়ে কাত করে শুইয়ে দিন। এতে বমি হলে শ্বাসনালীতে ঢোকার ঝুঁকি কমে। কখন হাসপাতালে নেওয়া জরুরি? যদি দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফেরে, খিঁচুনি হয়, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, মাথায় আঘাত লেগে থাকে, অথবা রোগীর আগে থেকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে, তবে দেরি না করে হাসপাতালে নিন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অজ্ঞান হওয়া হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের লক্ষণ হতে পারে। আমাদের দেশে অনেক সময় কুসংস্কার বা ভুল ধারণার কারণে দেরি হয়ে যায়। কেউ বলেন জিনে ধরেছে, কেউ বলেন হাওয়া লেগেছে। বাস্তবে অজ্ঞান হওয়া শরীরের একটি সতর্ক সংকেত। এটিকে অবহেলা করলে বড় বিপদ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত ও সঠিক প্রাথমিক ব্যবস্থা নিলে রোগী নিরাপদে সেরে ওঠেন। কিন্তু ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতি খারাপ করে দিতে পারে। তাই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পরিবারে, কর্মস্থলে, স্কুলে সবারই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত, কয়েকটি সচেতন পদক্ষেপ, আর সামান্য প্রশিক্ষণই কারও জীবন বাঁচাতে পারে। অজ্ঞান হওয়াকে হালকা করে দেখবেন না। দ্রুত ব্যবস্থা নিন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জীবন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button