স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে ইজিবাইক চালক রানা হত্যাকা-ের আরেক আসামি গ্রেফতার

# গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীর স্বীকারোক্তীতে অপর আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ #
# ইজিবাইক বিক্রির টার্গেট করেই গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামী রানাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা মেইনরোড এলাকার বাসিন্দা নিহত ভিকটিম ইজিবাইক চালক মোঃ রানা হাওলাদার (২৪) হত্যাকা-ে জড়িত ও হত্যার পরিকল্পনাকারী আরেক আসামীকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা এলাকা থেকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামী হলেন- দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা সিএসডি গোডাউন এর সামনের এলাকার বাসিন্দা মো. সুলতান ফকিরের পুত্র মো. বিপ্লব ফকির (২৪)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে আদালতে সোর্পদ করে করা হয়, বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) এ.এফ.এম জাহিদুল ইসলাম।
এর আগে, নিহত ভিকটিম ইজিবাইক চালক মোঃ রানা হাওলাদার হত্যাকা-ে জড়িত ও হত্যার পরিকল্পনাকারী আরেক দুই আসামী আসামীকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে দৌলতপুরস্থ মহেশ্বরপাশা মানিকতলা বেল্লাল মাঝির বাসার ভাড়াটিয়া রফিকুল হাওলাদারের পুত্র মোঃ মেহেদী হাসান রাব্বি (২২) ও মানিকতলা সিএসডি গোডাউন এর সামনের এলাকার বাসিন্দা মোঃ হারুন ফরাজীর পুত্র মোঃ মিরাজ ফরাজী (২০) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পুর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই আসামী হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। তাদের স্বীকারোক্তীর উপর ভিত্তি করে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার ঘটনায় জড়িত আরেক আসামী মানিকতলা সিএসডি গোডাউন এর সামনের এলাকার বাসিন্দা মো. সুলতান ফকিরের পুত্র মো. বিপ্লব ফকির (২৪)’কে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশ ক্লুলেস ইজিবাইক চালক রানা হত্যাকা-ে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করতে সক্ষম হয়েছে। সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মানিকতলা মেইনরোড এলাকার বাসিন্দা মিন্টু হাওলাদারের পুত্র নিহত ভিকটিম ইজিবাইক চালক মোঃ রানা হাওলাদার (২৪) গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দুপুরে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়, কিন্ত গভীর রাত হয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে নাই। নিহত ভিকটিম মোঃ রানা হাওলাদার এর স্ত্রী দৌলতপুর থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন (যার জিডি নং-৭৪০, তারিখ-১৮-২-২৬)। পরবর্তীতে থানা পুলিশ উক্ত জিডির ভিত্তিতে ভিকটিমকে খোঁজাখুজি করতে থাকে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দৌলতপুর থানাধীন রেলিগেট কৃষ্ণমোহন শ্মশাণ ঘাটে ভৈরব নদীর কিনারায় নিহত ভিকটিমের মৃতদেহ পাওয়া যায়। অজ্ঞাতনামা আসামীরা নিহত ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দিয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একটি হত্যা মামলার রুজু করা হয় ( মামলা নং-০৭)। দৌলতপুর থানার এসআই মোঃ আল রাহাদ শেখ মামলার তদন্ত শুরু করেন। অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন ফেব্রুয়ারি অভিযান পরিচালনা করে দৌলতপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকা-ে জড়িত ২ আসামিকে গ্রেপ্তারতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যনুসারে, হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার ঘটনায় জড়িত আরেক আসামী মানিকতলা সিএসডি গোডাউন এর সামনের এলাকার বাসিন্দা মো. সুলতান ফকিরের পুত্র মো. বিপ্লব ফকির (২৪)’কে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ করে বুধবার আদালতে সোর্পদ করে। পুলিশ জানায়, নিহত ভিকটিম ইজিবাইক চালক মোঃ রানা হাওলাদার ও গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা একই এলাকার এবং এক সাথে চলাফেরা করতো। আসামীরা নিহত রানার ইজিবাইক বিক্রির টার্গেট করে এই কিলিং মিশন চালায়ে দৌলতপুর থানাধীন রেলিগেট কৃষ্ণমোহন শ্মশাণ ঘাট ( ভৈরব নদীর কিনার) এলাকায় এই হত্যাকা- চালিয়ে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয় বলে স্বীকারোক্তী প্রদান করে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আল রাহাত শেখ জানান জানান, মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের সনাক্ত করি এবং ডিসি (উত্তর),এসি দৌলতপুর জোন, অফিসার ইনচার্জ, দৌলতপুর থানার দিক নির্দেশনায় এবং ওসি (তদন্ত) মহোদ্বয়েনর নেতৃত্বে হত্যায় জড়িত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং আসামিদ্বয় বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করে। এবং হত্যাকা-ের আরেক আসামীর জড়িত থাকার চাঞ্চল্যতথ্য প্রদান করে ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী ) রাতে আরেক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইজিবাইক চালক হত্যাকা-ের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার রুজু হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে হত্যাকা-ে জড়িত ২ আসামীকে শণাক্ত করি এবং অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করি। ওই আসামিদ্বয় বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করে এবং হত্যাকা-ের আরেক আসামীর জড়িত থাকার চাঞ্চল্যতথ্য প্রদান করে ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে আরেক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়। এই নিয়ে ক্লুলেস এই হত্যা মামলার পরিকল্পনাকারী আসামীদের গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আসামীরা নিহত রানার ইজিবাইক বিক্রির টার্গেট করে এই কিলিং মিশন চালিয়ে তাকে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তী প্রদান করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button