স্থানীয় সংবাদ

আমি বিএনপির এমপি নই, তেরখাদা-দিঘলিয়া-রূপসার সকল মানুষের এমপি : তেরখাদায় নবনির্বাচিত এমপি হেলাল

তেরখাদা প্রতিনিধি : খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, “আমি বিএনপির এমপি নই, আমি তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসায় বসবাসকারী সকল মানুষের এমপি। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা রয়েছে, আর সেই ন্যায্যতার ভিত্তি তেরখাদা থেকে গড়ে তুলে তা পর্যায়ক্রমে রূপসা ও দিঘলিয়ায় বিস্তৃত করতে চাই।”
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেরখাদা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. বি. এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে সকল সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় উপজেলা চত্বরে বনজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা বহন করে।
মতবিনিময় সভায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল তাঁর বক্তব্যে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অপরাধী যদি নিজের দলের কিংবা আত্মীয়-স্বজনও হয়, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন ও সঠিক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
জলমহল ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে প্রকৃত জেলেরা উপকৃত হয় এবং কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে উন্নয়ন প্রকল্প এনে তেরখাদাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই।
খাল পুনঃখনন প্রসঙ্গে এমপি আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তেরখাদায় বহু পরিত্যক্ত জমি ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল রয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারে আনা গেলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশÍএই তিন খাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বর্ষাকালে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে পর্যায়ক্রমে পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. নুরুন্নবী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহিদুল্লাহ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: সাইদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম. এম. মতিয়ার রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ তালহা আশরাফ, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হাই, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অতীশ সরদার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল কবীর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রজিত সরকার এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাশ।
বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। জরুরি ওষুধ ও স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টি জানানো হলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জরাজীর্ণ অফিস কক্ষ পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মানোন্নয়নে যা যা প্রয়োজন তা ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করবেন। চিকিৎসা সেবায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তেরখাদার কয়টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে এবং কোথায় নেই, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষপর্বে বিকালে তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেংগা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত গণইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল। গণইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, মাওলানা কবিরুল হক (খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির), যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, নাজমুস সাকিব পিন্টু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, বাবু উজ্জ্বল কুমার সাহা, শেখ আবু সাঈদ, ফারুক হোসেন, রেজাউল ইসলাম, নয়ন মোড়ল, মো: রয়েল, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফএম হাবিবুর রহমান সাবেক,সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন বিএনপি নেতা মোল্লা মাহবুবুর রহমান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, সরদার আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ আহমেদ নান্টা, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমাউন কবির, মিল্টন মুন্সি, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ মুন্সি, শামীম আহাম্মেদ রমিজ, কৃষক দল নেতা রাজু চৌধুরী, সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, চৌধুরী আসাবুর রহমান, আমিনুর রহমান আমিনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সারাদিনের কর্মসূচিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়মূলক মতবিনিময়, পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা তদারকি এবং গণইফতারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তেরখাদার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত এমপি আজিজুল বারী হেলাল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button