স্থানীয় সংবাদ

রবিবার কেসিসি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নজরুল ইসলাম মঞ্জুঃ কেসিসির ব্যাপক প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ আগামী রবিবার দুপুর আড়াইটায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ইতোমধ্যে দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে কেসিসি। ওইদিন নগরভবনের অডিটরিয়ামে নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতি তাঁর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বিদায়ী প্রশাসক মোখতার আহমেদ । কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে নগরভবনের অডিটরিয়ামে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তি, গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত থাকবেন। নগরভবনের নীচেও আগত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা থাকবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শারীরিকভাবে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পরিবার ও নেতৃবৃন্দের অনুরোধে তাকে চিকিৎসাধীন থাকতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা সিটি প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর হাতে যোগদান পত্র তুলে দেন তিনি। যোগদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর যাবৎ আমলা দ্বারা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হয়েছে। জনগণের প্রতিনিধিরা জনসেবার দায়িত্বে না থাকায় অনেক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের সঙ্গে থেকে জনগনের জন্য কাজ করতে। আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবো।
২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক ও ১২ বছর ছিলেন সভাপতি। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও শুধু খুলনা-২ আসনে জয় পান বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। একই বছরের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম। দুবারই তিনি হেরে যান। বিএনপি নির্বাচন দুটিতে কারচুপির অভিযোগ করেছিল।বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাঁর এই পরাজয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে তাঁর পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর হঠাৎ কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে বাদ দেওয়া হয়। নতুন ঘোষিত কমিটিতে তাঁকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ড কমিটির অধিকাংশেরই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি নতুন কমিটির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। এরপর কেন্দ্র থেকে নজরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান শফিকুল আলম (মনা) ও শফিকুল আলমের (তুহিন) নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতা-কর্মীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। দলীয় পদ হারানোর পরও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বিভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকা- চালিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মঞ্জুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতা এবং অনুসারীরা তা মেনে নিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button