স্থানীয় সংবাদ

নির্বাচনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কালীগঞ্জে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ঃ নির্বাচনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের উপস্থিতিতে তার সমর্থকদের দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্য। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা শহরের থানার সামনে রাশেদ খানের নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খান থানার সামনে তার কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়ন সভা করছিলেন। নির্বাচনে সন্তোষজনক ভোট না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এত টাকা দেওয়ার পরও কেনো ধানের শীষ প্রতীক ভোট কম পেয়েছে জানতে চান। তখন একজন কর্মী তার বক্তব্যে ক্ষোভের সাথে বলেন, আপনি যাদের হাতে টাকা দিয়েছেন তারা সবাই আপনার টাকা নিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন। বক্তারা সকলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন। বক্তারা বলেন, তারা সবাই দাঁড়িপাল্লার টাকা খেয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছেন; এ কারণে ধানের শীষ প্রতীক ভোট কম পেয়েছে। এই বক্তব্য নিয়ে তর্কতর্কি, পরবর্তীতে অফিসে পাহারারত ডিউটি পুলিশের উপস্থিতিতে সমর্থকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় এক পক্ষের ধাওয়ায় অন্য পক্ষ থানার ভেতর ঢুকে পড়ে। সেখানেও তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাধা দিতে গেলে হামলার শিকার হয় পুলিশও। চার পুলিশসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন। সহকারী উপপরিদর্শক জাহিদ হোসেন, কনস্টেবল পিপলু মিয়া ও সেলিম রেজাসহ আহত পুলিশ সদস্যরা কালীগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লার হোসেন বলেন, দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষ মারামারি শুরু করে রাস্তায় নেমে আসে এবং পরে থানার ভেতরে প্রবেশ করে। সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশের চার কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা রাশেদ খান। নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে তিনি তৃতীয় হন। এই আসনে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালিব। সংঘর্ষের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, সকালে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হঠাৎ করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি নিশ্চিত নন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button