নগরীতে উচ্চ শব্দযন্ত্র মাইক ব্যবহার বেড়েই চলছে

# অসহণীয় শব্দ দূষণে নগরবাসী : ভিক্ষুকরা ভিক্ষাও চাইছে মাইকে #
স্টাফ রিপোর্টার: নগরীর অলিগলিতে হরহামেশা দেখা মিলছে হকারেরা উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করে হাক-ডাক করে বিক্রি করছে বিভিন্ন পণ্য, মাছ, তরকারি, ফল, ভাংড়ি মালামাল, মাঠা, জুতা স্যান্ডেল, খাদ্য সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য। এমনকি বর্তমানে ভ্যানে করে উচ্চ শব্দের অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করে ভিক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে ভিক্ষুকদের। আর এতে করে বিরক্তিকর শব্দে স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এমনকি রমজান মাসে মসজিদে নামাজ আদায়ের সময়ে, স্কুলের সামনে, চলছে এই উচ্চ শব্দ যন্ত্র ব্যবহার। এ বিষয়ে কথা হয় সচেতন নাগরিক মোঃ সোহেল রানার সাথে তিনি বলেন, বর্তমানে উচ্চ শব্দযন্ত্র ছোট মাইক ব্যবহার হচ্ছে হরহামেশা। বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, শব্দর একটি মাত্রা আছে তবে সড়কে এধরনের উচ্চমাত্রার হাইপ্রেলিক হর্ণ ব্যবহারে মানুষের কানের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এমনকি তার শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়। পাশপাশি মানুষের শরীরের খিটখিটে মেজাজসহ হার্ট ডায়েবেটিসসহ নানা ধরনের রোগ বাসা বাধে। তাছাড়া প্রায় সময়ে উঠতি বয়সি ছেলেদের মোটরসাইকেলের উচ্চমাত্রায় হর্ন বাজানের শব্দ শোনা যায় যা একজন সুস্থ মানুষ ও অতিরিক্ত শব্দে অসুস্থ্য হয়ে হতে পারে। যেসকল মানুষের হার্ট ও কানের সমস্যা আছে তাদের জন্য উচ্চমাত্রা শব্দে সমস্যা আরো বেড়ে যায়। এছাড়া শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য মারাত্মক একটি হুমকি তাই এবিষয়টি প্রশাসনের খেয়াল রাখতে হবে এবং এই হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে যাতে এই সমস্যা রোধ পায়। এবিষয়ে খুলনা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট ওয়াছিউর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে দূষণমুক্ত নিরাপদ সড়কের জন্য যাত্রী, বাস মালিক, চালকসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে প্রশাসন। শব্দদূষণ রোধে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুসারে নীরব এলাকায় দিনে ৪৫ ডেসিবল এবং রাতে ৩৫ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় এই মাত্রা দিনে ৫০ ও রাতে ৪০ ডেসিবল। এ ছাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবল শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবল এবং মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবল শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিশ্ব ।আর এ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথমবার এক মাস কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান আছে। পরবর্তী সময়ে একই অপরাধে ছয় মাস কারাদন্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান যুক্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ভাই কাগজ কলমে আইন বিধান থাকলেও আমাদের দেশে এই আনি কেউ মানবেনা। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের তেমন কোন জনবল নেই। ক্ষমতা শুধু কাগজ কলমে বাস্তব ভিন্ন । আমি ও একই ভাবে ভুক্তভোগী। তবে একটি বিষয় করা যেতে পারে। সেইটা হলো সামাজিকভাবে সকলকে সচেতন করে এদের বিরুদ্ধে সকলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এরা যেন কোন আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। এই ভাবে নোটিস বা স্থানীয় ভাবে আরও সক্রিয় হতে হবে। মসজিদেন জুম্মার দিন ইমাম সাহেব বলবেন এছাড়া অন্যান্য ধর্মিয় উপসানলায়ে ও একইভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ না করলে এর বিস্তার বেড়েই চলবে।



