স্থানীয় সংবাদ

ফুলবাড়ি বাজারে তন্ময় গোলদারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ

# সরকারি বরাদ্দকৃত বালু কেটে বিক্রি #

বাটিয়াঘাটা( খুলনা) প্রতিনিধি ঃ ফুলবাড়ি বাজার সংলগ্ন সরকারি খাস জমি এখন দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পাপড়ি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তন্ময় গোলদার কর্তৃক প্রকাশ্যভাবে আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সরকারি বরাদ্দকৃত জমিতে যে কৃষি বিপণি বিতান স্থাপনের জন্য বালি ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল, সেই বালিই ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এটি শুধু অনিয়ম নয়, বরং সরকারি সম্পদের সরাসরি লুণ্ঠন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তন্ময় গোলদার দীর্ঘদিন ধরে ওই খাস জমিতে বালু মজুত ও বাণিজ্য চালাচ্ছেন। অথচ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন ও মজুত দ-নীয় অপরাধ। এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া বালুর বেড স্থাপন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে উচ্চ অঙ্কের জরিমানা, কারাদ- ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হতে পারে। ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি। সরকারি প্রকল্পের আওতায় জমি ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত বালিই ট্রাকে করে বিক্রি করার চেষ্টা দেখা যায়। বিষয়টি টের পেয়ে ফুলবাড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি চিন্ময় রায়, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরাসরি বাধা দেন। এতে বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময় রায় বলেন, “সরকারি টাকায় কেনা ও ভরাট করা বালি বিক্রি করা মানে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট। এটি শুধু অনিয়ম নয়, এটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজ জমি ইজারা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, “বালুর বেড স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইজারা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে তন্ময় গোলদার বলেন, “আমি বালুর বেড করার কথা জানিয়েই জমি ইজারা নিয়েছি।” এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ইউপি সদস্য পলাশ রায় জানিয়েছেন, সাধারণ সভায় বাজার উন্নয়ন ও সবজি আড়ত স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল; বালুর বেডের বিষয়ে কেউ অবগত নন। ৯নং ওয়ার্ড সদস্য বদিয়ার রহমান বলেন, “এই ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ, কোন ক্ষমতার বলে সরকারি ভরাট কৃত বালি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে, ইউপি সদস্য হিসাবে আমিও জানতে চাই। অবৈধ বালুর বেডের পাশেই বাজার যার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।” ফুলবাড়ি বাজার প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের কেন্দ্র। হোটেল, ফল-সবজি দোকান এবং বিশুদ্ধ পানির রিফাইনিং স্টোর থাকা সত্ত্বেও, বালু মজুত ও ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলাবালি ছড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, খাদ্যপণ্য দূষিত হচ্ছে, দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে, এবং পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। সে পৌঁছে বিস্তারিত জানানোর পরে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানান, “বাজার সংলগ্ন স্থানে বালুর বেড তৈরি করে বালু বিক্রির কোনো বৈধতা নেই। এ বিষয়ে অবিলম্বে জেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ স্পষ্টভাবে বলেছেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরপরই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বলে দিয়েছি। ওখান থেকে যেন এক দানা বালুও কোথাও যেন না যায়, এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা এই ঘটনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি জানিয়েছেন, দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদ ও তন্ময় গোলদার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সুযোগ কেউ পায় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button