স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর মুহাসিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ডাক বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

# ”মেইল কেরিয়ার” পদে পরীক্ষা #
নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪শ’ পরীক্ষার্থী অংশ নেন #

স্টাফ রিপোর্টার : দৌলতপুর মুহাসিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ডাক বিভাগ দক্ষিণ অঞ্চলের ”মেইল কেরিয়ার” পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের উত্তেজনা চরমে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) মুহাসিন মহিলা কলেজে ডাক বিভাগের ”মেইল কেরিয়ার” পদে কেন্দ্রে ১৪ শ’ জন নিয়োগ পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পূর্বে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রের ৫ম তলার ৫০৮ রুমে নিয়ে আসেন। সকাল ১০ টা থেকে শুরু ১১ টায় পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষর্থীরা জানান , কেন্দ্রের ৫০৮ নম্বর রুমে পরীক্ষার্থীদের সামনে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলেন। প্রশ্নপত্র প্যাকেট খুলেই প্রশ্ন হাতে করে নিয়ে মুহাসিন মহিলা কলেজের শিক্ষক হাফিজুর রহমান বাহিরে চলে যান। প্রায় আট মিনিট পরে উনি প্রশ্নপত্র নিয়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন উনি প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। যা অন্য শিক্ষার্থীরা ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরপত্র পেয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে করে কেন্দ্রের পরীক্ষার আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা সবাই ভালো পরীক্ষা দিয়েছি,তারপরও যেহেতু প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গেছে আমাদের পাশ করার কোন সম্ভাবনা নেই। শাহাপুর মধুগ্রামের পরীক্ষার্থী মামুন জানান,পরীক্ষা শুরুতেই আমরা ক্লাসের অন্য শিক্ষকদের জানিয়েছি বিষয়টি। তাহারা বলেছেন তারা বাইরে থেকে এসেছে কিছু বলতে পারবেন না। পরীক্ষা শেষে নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা এক জায়গায় ঝড়ো হয়ে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজওয়ানুল রশিদকে এ বিষয়টি অবগত করি। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি শুনে প্রশ্নপত্র নিয়ে বাহিরে যাওয়ার ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হয়। তখন তিনি উত্তেজিত পরীক্ষার্থীদের বলেন,অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে নিয়মিত মামলা করা হবে। আমি সাথে করে নিয়ে থানায় হ্যান্ডওভার করব। কিন্তু পরবর্তীতে উনি থানাতে না দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছেন বলে সুত্রে জানা যায়। এ বিষয়টি নিয়ে এই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকল শিক্ষার্থীদের আশস্ত করেছে আমি ওনার বিচার করব। নিয়োগ পরীক্ষার্থী লক্ষী বিশ^াস জানান, এই নিয়োগ বাণিজ্য চক্রের সাথে যারা জড়িত আছেন তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে এই নিয়োগ বাণিজ্য ঘটনার সাথে পরীক্ষা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা জড়িত আছেন বলে শিক্ষার্থীরা ধারণা করছেন। নিয়োগ পরীক্ষার্থীরা বলছেন আমরা যখন শিক্ষক হাফিজুর রহমানের বিষয়ে কথা বলতে চাই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব নওরোজি কবির আমাদের কথা ডাইভার্ট করে অন্য কথার মধ্যে নিয়ে যান এবং অভিযুক্তকে বাঁচাতে কাউন্টার দিতে থাকেন। মুহাসিন মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ( ভারপ্রাপ্ত) নওরোজি কবির কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব নওরোজী কবির’র যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে তিনি এই নিয়োগ বানিজ্যের নেপথ্যে জড়িত রয়েছে। নিয়োগ সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান পরীক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে দায়িত্বপাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউনুল রশিদ বলেন,আমরা তদন্ত করে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে আমি আইনের আওতায় এনে তাকে বিচার করব। পরবর্তীতে তিনি কলেজের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের রুমে শিক্ষকদের সাথে রুদ্রদার আলোচনায় অংশ নেন।পরবর্তীতে দেখা যায় অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের সাথে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে নিয়মিত মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করবে বলে জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সুত্রে জানা যায়,শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পোস্ট মাস্টার জেনারেলের দপ্তরে যান। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। সেখানে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছেড়ে দেন। কলেজ সুত্রে জানা যায়,পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক জাকির হোসেন,সদস্য প্রভাষক ইসমাইল হোসেন ও প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরবর্তীতে পলীক্ষার ১ দিন আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে যুক্ত করেন। ২৭ ফেব্রয়ারী কেন্দ্র সচিব নওরোজী কবির ৫০৮ হলে খন্ডকালীন অফিস সহায়ক আসমাকে দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন। আসমাকে নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button