প্রধান রক্ষিকে কৈফত তলব, ক্যান্টিন ব্যবসাকে পুঁজি করে জেলার কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি কয়েদী তেঁতুল পড়ে আহত : ঢাকায় চিকিৎসাধীন
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তেঁতুল পাড়ার জন্য গাছে তোলায় এক কয়েদী আসামীর পা ভেঙ্গে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। একজন বন্দি কয়েদী আসামীকে জেল কোড উপেক্ষা করে গাছে তুলতে বাধ্য করায় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রধান রক্ষি (সুবেদার ভিতর) দায়িত্ব পালনরত হাবিবুর রহমান শিতলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কারা অধিদপ্তরে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া, বন্দি আসামীদের মাঝে সরকারি বরাদ্ধকৃত খাবারের বাইরে ক্যান্টিন চালু রেখে উচ্চ মূল্যে খাবার সামগ্রী বিক্রি করে জেলার প্রতিমাসে ১৫/১৬লাখ টাকা আয় করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে কারাগারে প্রবেশের পর বন্দি কয়েদী হাজতী আসামীদেরকে পুঁজি করে জেলার কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েন।
কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হাজতী আসামী জানান,যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গত সপ্তায় কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত প্রধান রক্ষি (সুবেদার) হাবিবুর রহমান শীতল কয়েদী আসামী ফাইজুলকে কারাগারের ভিতরে উঁচু তেঁতুল গাছে তেঁতুল পাড়ার জন্য তুলতে বাধ্য করে। কয়েদী ফাইজুল ইসলাম প্রধান রক্ষি হাবিবুর রহমান শিতলের কথা মতো তেঁতুলগাছে উঠে হঠাৎ গাছ থেকে পড়ে যায়। ফলে তার পা ভেঙ্গে/মস্কে যায়। গাছ থেকে পড়ার সাথে কয়েদী আসামীকে কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার দেওয়া হলেও অবস্থা গুরুতর হলে বিষয়টি এড়ানোর জন্য কয়েদী ফাইজুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। একজন বন্দিকে জেল কোড অনুযায়ী গাছে উঠানো কতটুকু আইনসিদ্ধ এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারা অভ্যন্তরে গাছ থেকে কয়েদী আসামী ফাইজুল ইসলাম পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে জেলার আবিদ আহমেদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কয়েদী আসামী ফাইজুল ইসলাম তেঁতুল গাছে তেঁতুল পাড়তে উঠে হঠাৎ পড়ে পা মক্সে গেছে। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাগারের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কয়েদী আসামীকে তেঁতুল গাছে উঠানোর অভিযোগে ভিতরের প্রধান রক্ষি (সুবেদার) হাবিবুর রহমান শিতলকে কৈফত জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কারা অধিদপ্তরে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দি কয়েদী ও হাজতি আসামীদের জন্য ক্যান্টিন চালু অব্যাহত রেখে জেলা প্রতিমাসে ১৫/১৬ লাখ উপার্জন করে। গত ফেব্রুয়ার মাস থেকে উক্ত ক্যান্টিনে রক্ষি বেলাল নামে একজনকে ম্যানেজার নিযুক্ত দিয়েছেন জেলার আবিদ আহমেদ। তিনি বেলাল এর মাধ্যমে ক্যান্টিনে বন্দিদের জন্য বিভিন্ন খাবার সামগ্রী বাইরের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করে। বন্দি কয়েদী ও হাজতি আসামী কারাগারে প্রবেশের পর তাদের জন্য পিসি কার্ড চালু করেন কারাগার কর্তৃপক্ষ। সূত্রগুলো বলেছে,এক টুকরো মুরগীর মাংস ৪০ থেকে ৫০ টাকা,গরুর মাংস ১ শ’ থেকে তার অধিক। বিভিন্ন ফল মূল বাইরের চেয়ে দ্বিগুন ও তার চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রি করে থাকে। কারাগারের ভিতরে ক্যান্টিনে বন্দি কয়েদী ও হাজতী আসামীদের মাঝে চড়া মূল্যে খাবার সামগ্রী বিক্রি করে বন্দিদের আত্মীয়স্বজনদের নিঃস্ব করা হচ্ছে। সূত্রগুলো বলেছে, ক্যান্টিনের ম্যানেজার রক্ষি বেলায় কারারক্ষি আব্দুর রাজ্জাকের আপন ভাইরা ভাই। রক্ষি আব্দুর রহমান জেলারের বিশ^স্ত হওয়ায় রক্ষিদের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব বন্টন (লাইস) এর দায়িত্ব পালনের পর সে জেলারের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার আবিদ আহমেদ তার মনোনীত রক্ষিদের দিয়ে কারাগারে কর্মরত রক্ষিদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন এ বিষয়টি কারাগারে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অজানা নয়। কারাগারের ভিতরে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রিসহ নানা অনিয়মের জন্য জেলা প্রধান দায়ি হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন মহল। জেলারের মদদে ভিতরে কয়েদী আসামী অনিক,রিন্টু তাঁত চালিতে দীর্ঘদিন অবস্থান নিয়ে বন্দিদের মাঝে গ্যাস লাইট,গ্যাস লাইটের পাথর,হাতে বুনা টুপি বিক্রি করছে। বিক্রিত অর্থ পিসি কার্ড ও বিকাশের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছে। ভিতরের ক্যান্টিনের ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট। আর এর জাতাকলে পড়ে বন্দিদের আত্মীয়স্বজনেরা নাভিশ^াস হয়ে উঠেছে। কারাগারের ভিতরে ক্যান্টিনসহ নানান অনিয়মের ব্যাপারে সুপার আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,জেলারের বিষয় তার সাথে কথা বলেন।


