স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় বাইশ দিনের শিশু পুত্রসন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেছে পাষন্ড পিতা

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামে পাষন্ড পিতা নাহিদ শেখ ( ২৮) নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছে নিজের ২২ দিনের শিশু পুত্র মুনতাসিরকে। হত্যার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (০৩ মার্চ-২০২৬ ইং) খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি মিবাসী মাসুদ শেখের পুত্র নাহিদ শেখ (২৮)। তার শশুর বাড়ি খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে। ঐ দিন নাহিদ তার শশুর বাড়িতে রাত্রি যাপনকালে ভোর আনুমানিক ৫টার সময় নিজের ২২ দিনের শিশু পুত্র সন্তান মুনতাসিরকে গলাটিপে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে মুনতাসিরের নানা বাড়ির পাশে খোকা মল্লিকের বাড়ির পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকির ভেতর রেখে দেয়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মাতা মোছাঃ মৌ (২৪) ঘুম থেকে উঠে বাচ্চাকে না পেয়ে স্বামীর কাছে বাচ্চার কথা জিজ্ঞেস করলে বাচ্চার বাবা বলে সেনহাটি রেখে আসছি। বাচ্চার মা তখন সেনহাটি যাওয়ার কথা বললে গাড়িযোগে ভুল বুঝিয়ে ফরিদপুর নিয়ে যায়। তখন ভিকটিমের মা বুঝতে পেরে ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তখন স্ত্রী তার স্বামীর বিষয়ে জানালে ঐ এলাকার লোকজন ফরিদপুর সদর থানা পুলিশকে অবগত করে। ফরিদপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিমের মা-বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ভিকটিমের মামাবাড়ি লাখোহাটিতে খবর জানায়। ভিকটিমের মামাবাড়ির লোকজন পরবর্তীতে কামারগাতি ক্যাম্প পুলিশকে জানালে ক্যাম্প পুলিশ লাখোহাটি গিয়ে খোকা মল্লিকের বাড়ির পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকারের ভিতর হতে ভিকটিম মুনতাসিরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এদিকে দিঘলিয়া থানা সংবাদ পেয়ে ফরিদপুর সদর থানায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী নাহিদ ও মৌকে দিঘলিয়া থানায় নিয়ে আসে। হত্যার মূল কারণ পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। দিঘলিয়া থানায় পাষন্ড পিতা নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ২, তারিখ ০৪/০৩/২০২৬ ইং। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম এ প্রতিবেদককে জানান, গ্রেফতারকৃত নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মৌ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আসামী নাহিদকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। নাহিদকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন মৃত্যুর সটিক কারণ জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button