দিঘলিয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর পাষন্ড পিতা কর্তৃক শিশুপূত্র হত্যাকা- নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ শিশু পুত্রকে হত্যা করে সুন্দরী মুর্শিদা আক্তার মৌ (২৪) কে পাচারকারীর হাতে তুলে দিয়ে বিনিময় অর্থ নিয়ে বিদেশ গমনের ইচ্ছায় এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে এমনটাই লোকমুখে চাওর হচ্ছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বছর দুই হয়েছে লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা মুর্শিদা আক্তার মৌ এর সাথে সেনহাটি এলাকার মাসুদ শেখের পুত্র নাহিদ শেখের দুই পরিবারের দেখাশুনার মাধ্যমে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিবাহ হয়। দুই বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলে ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তানের আগমন ঘটে। নাহিদ এই সন্তানের জন্ম নেওয়ায় সন্তোষ্ট হতে পারে নি। নাহিদ শেখ ছিল শিক্ষিত এক বেকার ছেলে। প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চলত। তাইতো তার মনে কুমতলব বাসা বাঁধে। সে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার শশুর বাড়ি গিয়ে রাত যাপন করে। স্ত্রী মৌ ঘুমিয়ে রয়েছে। এই সুযোগে ২২ দিনের শিশু পুত্র সন্তান মুনতাসিরকে নিয়ে সোজা খোকা মল্লিকের ভবনের নিকট যায়। সেখানে গিয়ে পাষন্ড পিতা নাহিদ নিজ হাতে শিশু পুত্রের গলাটিপে হত্যা করে পরিত্যাক্ত সেফটি ট্যাংকের ভেতরে পুতে রাখে।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মৌ স্বামীর কাছে ছেলে কোথায় জিজ্ঞাসা করলে মাসুদ বলে ছেলেকে তার দাদাবাড়ি সেনহাটিতে রেখে এসেছি। মৌ তখন সেনহাটি পুত্রের নিকট যেতে চাইলে মাসুদ তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফরিদপুর গিয়ে পৌঁছালে মৌ এর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সে সেখানে ডাক চিৎকার শুরু করলে লোকজন জড়ো হয়ে পড়লে মৌ তাদের নিকট স্বামীর সব ঘটনা খুলে বলে এবং তার স্বামী তাকে মেরে ফেলবে বলে জানালে লোকজন ফরিদপুর সদর থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে তাদের দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দিঘলিয়া থানায় ম্যাসেজ পাঠায়। এদিকে কামারগাতী ফাঁড়ির পুলিশ সংবাদ পেয়ে ৪/০৩/২০২৬ ইং তারিখ সকালে
লাখোহাটি গ্রামে গিয়ে খোকা মল্লিকের সেফটি ট্যাংকি থেকে শিশু মুনতাসিরের লাশ উদ্ধার করে।
অপরদিকে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ফরিদপুর সদর থানায় গিয়ে মৌ ও নাহিদকে দিঘলিয়া থানায় নিয়ে আসে। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে স্ত্রী মুর্শিদা আক্তার মৌকে বাদি করে নাহিদকে আসামী করে দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২ তারিখ ৪/০৩/২০২৬ ইং। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে শিশুকে হত্যা করে মৌকে ঢাকা নিয়ে পাচারকারীদের হতে স্ত্রী মৌকে তুলে দিয়ে বিনিময় অর্থ দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় সে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। এদিকে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম এ প্রতিবেদককে জানান, নাহিদের স্ত্রী মৌকে বাদী করে স্বামী নাহিদকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সঠিক কারণ স্বীকার করে নি। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সঠিক কারণ জানা যাবে।



