বাগেরহাট জেলা শহরে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরলেন সমাবেশে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা

# মাদক বিরোধী সমাবেশ #
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটে প্রশাসনের মাদক বিরোধী সমাবেশে মাদক নির্মূলের দাবি তুলেছেন সমাবেশে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটের সর্বত্রই মাদকের ভয়াল থাবায় জর্জরিত হয়ে রয়েছে পরিবারগুলো। এখানের প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবারের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে মাদক নির্মূলের আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে বাগেরহাট জেলা শহরের পৌরসভাধিন রেলবস্তিতে জেলা প্রশাসন এ মাদক বিরোধী সমাবেশের আয়োজন করে। এখানে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সামনেই মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগি বাসিন্দারা। এখানে এক মা বলেন মাদক সেবন করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে তার এক ছেলে। তাই তাকে শিকল বন্দি করে রাখতে হচ্ছে। ৬ মাসের বেশি সময় ধরে তাকে শিকল বন্দি করে রেখেছি। আমার দুই ছেলে দুজনই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করাবো, সেই সামর্থ নেই আমার। সমাবেশ চলাকালে বাগেরহাট শহরের রেলবস্তিতে বসবাস করা দিনমজুর মা শাহিদা বেগম মাদকের ভয়াল আগ্রাসনের কথা তুলে ধরেন সংবাদ কর্মীদের কাছে। তিনি আরও বলেন, নেশার কারনে ছেলের বউ ছেড়ে চলে গেছে। এই বস্তির প্রতিটি ঘরে একই অবস্থা, আমার দুটি ছেলেই মাদকাসক্ত। আমার একমাত্র মেয়ে জামাই সেও মাদকাসক্ত। এরা সবাই ইয়াবা নেশায় আসক্ত। কিভাবে এই মাদক থেকে মুক্তি পাবো। ছেলে মাদকের জন্য টাকা না পেলে আমাকে মারধর পর্যন্ত করে। ছেলেদের চিকিৎসা করাবো সেই টাকা নেই। ছেলেদের চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে চাই। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন মা শাহিদা বেগম। ওই রেলবস্তিতে বসবাস করা অধিকাংশ বাসিন্দা মাদকের ভয়াল থাবায় জর্জরিত। মাদক থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে তারা জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, তাদের কিশোর বয়সী ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। দশ বছর বয়সী ছেলেরাও মাদক গ্রহণ করছে। নেশার টাকা না পেলে আমাদের গায়ে হাত তোলে। তাদের জন্য ভয়ে থাকতে হয়। আর পুলিশ প্রশাসন এখানের মাদককারবারিদের সহযোগিতা করে। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভাল করব কি করে। তাই মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক নেতাসহ প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা রাখার দাবি জানান মাদক বিরোধী সমাবেশে উপস্থিত মানুষ। প্রসঙ্গতঃ পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কে নিয়মিত মাশোয়ারা দিয়ে বাগেরহাটের মাদক বিক্রেতারা তাদের এ অবৈধ ব্যবসা করে আসছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ সমাবেশে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ মাদক নির্মূলে কাজ করছে। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতা চাইছি। এলাকার মাদক কারবারি, বিক্রেতাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে মাদক নির্মূল হবে। সবাই সহযোগিতা করলে মাকদমুক্ত সমাজ গড়া যাবে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে জেলাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদক নির্মূলে প্রশাসন জিরো ট্রলারেন্সে আছে। সমাজে অপরাধের অন্যতম কারন মাদক। মাদক থেকে বহু সমস্যার সূত্রপাত হয়ে থাকে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাদক শূন্য করা হবে। এজন্য অনেক কাজ আছে। এক্ষেত্রে শুধু মাদক ব্যবসা বন্ধ করলে হবে না। যারা মাদক ব্যবহার করে তাদেরকে পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তাদের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাব) নেয়া হবে আর যারা মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের অন্য পেশায় নিয়োজিত করার চেষ্টা করা হবে। আর আইনের কঠোরতম প্রয়োগ করা হবে। যেমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, আর তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করবেন। সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দর করতে হলে মাদক নির্মুল করতেই হবে।



