শ্রমিক নেতা মাসুম কিলিং মিশনে তিন গ্রুপে অংশ নেয় ৮ কিলার

গ্রেনেড বাবুর নির্দেশেই হত্যা : পুলিশ
গ্রেফতার অশোকসহ ২
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহবায়ক ও রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে পূর্ব শত্রুতা ও রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়েছে। মাসুম হত্যার কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৮ জন। তারা ৩টি গ্রুপে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে গুলি করার জন্য একটি গ্রুপ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জন্য একটি গ্রুপ ও কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ছিল আরেকটি গ্রুপ। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর নির্দেশে এ হত্যা মিশন বাস্তবায়ন করে তারা। কিলিং মিশনে শর্টগান দিয়ে গুলি করে সৌরভ এবং পিস্তল দিয়ে পর পর ২ রাউন্ড গুলি করে অশোক ঘোষ। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, এ হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে পুলিশ নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে জাবেদ গাজী নামে আরেকজনকে আটক করেছে। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে কিলিং মিশন শেষ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতা ও পুলিশ অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে।
হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীসহ সাত থেকে আটজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি কন্ট্রাক্ট কিলিং। বি-কোম্পানির প্রধান গ্রেনেড বাবুর নির্দেশেই এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী হত্যা মামলা করবেন বলেও তিনি জানান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, আটক হওয়া অশোক ঘোষকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে, বৃহস্পতিবার রাতেও পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
নিহত মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে স্ত্রী ও ভাতিজার মেয়েকে নিয়ে মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন। প্রথমে তারা খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে যান। সেখান থেকে বিকেলে তারা নিউ মার্কেটে কেনাকাটা শেষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে ইফতার করেন। ইফতার শেষে নগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র ডাকবাংলা মোড়ে কেনাকাটার জন্য গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে চাপাতি দিয়ে পিছনে আঘাত করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে মাসুম বিল্লাহ বাটার শোরুমের মধ্যে প্রবেশ করেন। তখন পেছন থেকে কোপানো গ্রুপের সদস্যরা প্রথমে তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বাটার শোরুমে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মাসুম বিল্লাহকে গলায় ও পিঠে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাসুম বিল্লাহর চাচা মহিউদ্দীন শেখ হত্যাকা-ের ব্যাপারে বলেন, মাসুম বিল্লাহ রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। সেই কারণে মাসুম বিল্লাহ ফের সভাপতি পদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণেইে প্রতিপক্ষ গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে তাকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, পুলিশ সঠিক কারণ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উন্মোচন করে আসামীদের গ্রেপ্তার করবেন।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে নিহত মাসুম বিল্লাহকে রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। তার জানাজায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সী ওরফে মীনা মুন্সীর পুত্র। তিনি দুটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং আগে র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বড় ভাই নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।


