পাট জাত দ্রব্যের ব্যবহার তুলে ধরে,মানুষকে বুঝাতে হবে

# পাট দিবসে খুলনা জেলা প্রশাসক #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ ”পাট শিল্প গড়ে তুলুন ” কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন” এই শ্লোগানে পালিত হলো জাতীয় পাট দিবস ২০২৬।পাট দিবস উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসকের আয়োজনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট অধিদপ্তরের সহযোগিতায় শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেএমপি সহকারী পুলিশ কমিশনার শিহাব করিম, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম। পাট দিবসের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনার পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক এ এম আক্তার হোসেন,বিজেএমসির খুলনা জোনের আঞ্চলিক সমন্বয় কর্মকর্তা, ধান চালকল মালিক সমিতির সভাপতির প্রতিনিধি মোঃ ইয়াসির আরাফাত,জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ চাষী মোঃ আবু হানিফ,দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠুসহ বিভিন্ন পাট শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জুট মিলে কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ ও পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার পণ্যে পাট জাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছেন।এই আইনের আওতায় ধান,চাল,গম,ভুট্টা,সার,চিনি,মরিচ,হলুদ,পেঁয়াজ,আদা,রসুন,ডাল,ধনিয়া,আলু,আটা,ময়দা,পোল্ট্রি ফিডসহ ১৯ ধরনের পণ্য পাটের মোড়ক পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিভাবে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা যায়, কিভাবে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি করা যায়, সেটা কিন্তু আমরা সবাই জানি। তবে সেটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দেশের প্রাণ কৃষককে আমাদের সম্মান করতে হবে। কৃষক যাতে পাট চাষ থেকে ঘুরে না দাঁড়ায় সেই দিকে কতৃপক্ষের নজর দিতে হবে। কৃষক যদি একবার পাট চাষ থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। তারা তখন বিভিন্ন অজুহাতে আর পাট চাষ করবে না। মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে গেছে । পানির অভাব বিভিন্ন ভাবে তারা পাট চাষ থেকে সরে দাঁড়াবে। এজন্য পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃষক যাতে পাটের ভালো দাম পায়। পাট জাত দ্রব্যের ব্যবহার তুলে ধরে,মানুষকে বুঝাতে হবে। পাটের ব্যবহার করলে পুরোটাই লাভ। লোকসানের তেমন কিছু নাই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।আমাদের সমস্ত শিল্প গুলো রুগনো। পাটকল, চিনি কল সহ সরকারি যে সমস্ত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো বেশিরভাগই অলাভজনক হওয়ার কারণে। চিনি শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা দেনা। এই হাজার হাজার কোটি টাকা দেনা নিয়ে আবার পরবর্তী বছরের বাজেট তৈরি করে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসা। এভাবে একটি শিল্প হাজার হাজার কোটি টাকা দেনায় জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শিল্পটি বন্ধ করে দেয় সরকার। এজন্য আমাদের চেষ্টা করতে শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে পাটের ব্যবহারকে বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। পাটজাত পণ্য ব্যবহারে যে আইন রয়েছে সে আইন গুলো মেনে চললেই পাটের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব।



