মাদক চক্রই অস্ত্র পাচারের নেপথ্যে!

# খুলনায় চেকপোস্ট অভিযানে ৩ নারী আটক
# ৮০ বোতল কোডিন সিরাপ, ৫ আগ্নেয়াস্ত্র, ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
# ১৫ হাজার টাকায় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি
কামরুল হোসেন মনি ঃ সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা থেকে খুলনা হয়ে রাজধানী ঢাকায় অবৈধ অস্ত্র পাচারের নতুন চক্রের সন্ধান মিলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রের একটি অংশ এখন অস্ত্র পাচারের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নিজখামার এলাকায় যৌথ চেকপোস্ট অভিযানে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও খুলনা মহানগর পুলিশের যৌথ অভিযানে পৃথক দুই ঘটনায় তিন নারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৮০ বোত কোডিন ফসফেটযুক্ত সিরাপ, দুটি রিভলবার, ৩টি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন এবং ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্রসহ আটক সুরাইয়া পারভীন সুমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় অস্ত্রের চালান পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুমি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং এর আগে সাতক্ষীরায় মাদকসহ আটক হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার।
শনিবার বিকেল ৪টায় খুলনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, খুলনার উপপরিচালক এস কে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়ের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আহসানুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার (৭ মার্চ) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নিজখামার এলাকায় যৌথ চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিচালক এস কে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়ের।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা যশোর-জ-১১-০০৫৬ নম্বরের খুলনা-সাতক্ষীরা বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী মোছা. হোসনেয়ারা বেগম (৪৫)-এর কাছ থেকে ৪৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদক উদ্ধার করা হয়। একই বাসে থাকা অপর যাত্রী হালিমা (৪৭)-এর কাছ থেকে আরও ৩১ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক জি এম হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
এর কিছুক্ষণ পর একই স্থানে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ঈমাদ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী সুরাইয়া পারভীন সুমি (৩৮)-এর কাছ থেকে দুটি রিভলভার, তিনটি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক শফিউর রহমান বাদী হয়ে খুলনার লবণচোরা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আহসানুর রহমান বলেন, মাদক ও অস্ত্র একে অপরের সাথে জড়িত। সেক্ষেত্রে আমরা মাদকের পাশাপাশি অস্ত্রের চালান ধরতে পেরেছি এটা আমাদের জন্য একটা বড় সাফল্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যক্তি আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত, তারাই অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ বা সরবরাহের সঙ্গেও যুক্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তারা মনে করছেন, মাদক ব্যবসাকে নিরাপদ রাখতে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এসব চক্র অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। ফলে একই অপরাধী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র-দুই ধরনের অপরাধ পরিচালিত হওয়ায় তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচার ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



