কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় নারী প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর ব্যুরো ঃ জনগণের হাতে মহা প্রতারক মাহমুদা জামানকে রোববার ৮ মার্চ দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। প্রতারকের বিরুদ্ধে শনিবার ৭ মার্চ রাতে কোতয়ালি থানায় মামলাটি করেন প্রতারণার শিকার আব্দুস সোবহান। তিনি যশোর সদর উপজেলার বানিয়ালী গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। বাদি মামলায় উল্লেখ করেন, প্রতারক মাহমুদা জামান যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড় এলাকার মৃত ডাক্তার মুনসুর আলীর মেয়ে। বাদির পূর্ব পরিচিতি। উক্ত মাহমুদা জামান ফারইষ্ট লাইফ ইন্সুরেন্স চাকুরী করাকালে তার সাথে বাদির পরিচয় হয়। পরে উক্ত নারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড ঢাকায় চাকুরী করে বলে পরিচয় দেয় এবং তার প্রতিষ্ঠান হতে বিভিন্ন লোকজনদেরকে মোটা অংকের টাকা লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। উক্ত প্রতারক নারী তার কোম্পানী হতে স্বল্প মুনাফায় অনেক টাকা লোন করে দেওয়ার কবলে ২% মুনাফা দিতে হবে এবং ১০/১২ বছরে লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানালে বাদি তার কথায় বিশ^াস স্থাপন করে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর হতে সর্বশেষ গত বছরের ১১ অক্টোবর সকাল অনুমান সাড়ে ১১ টার সময় শহরের কোতয়ালি থানার সামনে বসে বাদি ও ভ’ক্তভোগী আয়ূব হোসেনের ৫০ হাজার, জুলেখার ৫০ হাজার, হিরার ৫০ হাজার, মুক্তার ৫০ হাজার, শারকের ৫০ হাজার, শহিদুল ইসলামের ৫০ হাজার, আলেয়া বেগমের ৫০ হাজার, জাফর হোসেনের ৫০ হাজার, জনির ৫০ হাজার, মাহাসিনের ৫০ হাজার, রফিকুর ইসলামের ৫০ হাজার, সোহেল রানার ৫০ হাজার, লতিফা বেগমের ৫০ হাজার, জাহানারা ৭৬ হাজার, জিয়ারুলের ৭০ হাজার, শাহিনুরের ৫০ হাজার, নিছার আলীর ৭০ হাজার, শান্তনার ৫০ হাজার, আব্দুল মালেকের ৫০ হাজার, শুকজান খাতুনের ১লাখ , ইসরাইলের ৫০ হাজার, নাসরিন বেগমের ৫০ হাজার, সাজিয়া ইসলামের ৫০ হাজার, শাহিনার ১লাখ, আতাউরের ২০ হাজার, লাবলীর ৫০ হাজার, আব্দুর সোবহানের ২লাখ, ইন্নাতুল হাসানের ৫০ হাজার, তানজিনা রহমানের ৭ লাখ, দিপুর ৫লাখ, মেহেদী হাসানের ৫০ হাজার ও মিরাজ হোসেনের কাছ থেকে ৩লাখ ২৬ হাজার টাকা নিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে বিভিন্ন মোটা অংকের টাকা লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাদির কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজপত্র,ব্যাংক একাউন্টের ব্যাংক চেক এবং গত বিগত ২৪ সালে ২৪ নভেম্বর হতে ২৫ সালের ১০ মে পর্যন্ত বাদি ও উল্লেখিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৭০লাখ টাকাসহ আরো অনেকের নিকট হতে টাকা গ্রহন করে। টাকা নেওয়ার পর প্রতারক মাহমুদ জামান কাউকে ৫লাখ ও কাউকে ১০লাখ টাকা লোন করে দেওয়ার কথা বলে ভোটার আইডি কার্ড ব্যাংক একাউন্ট নেয় এবং প্রত্যেককের কাছ থেকে ৩/৪টি ফাঁকা চেকের পাতায় সাক্ষর করে নেয়। টাকা নেওয়ার পর ১ মাসের মধ্যে লোন করে দিবে বলে মৌখিক ভাবে জানায়। তারপর সময় মতো লোন করে না দিয়ে আজ না কাল বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকে। গত ৭ মার্চ শনিবার দুপুর ২টার সময় প্রতারক মাহমুদা জামানকে বাদি শহরের দড়াটানা এলাকার খেলাঘর প্রতিষ্ঠানের সামনে পেয়ে লোন করে না দিয়ে টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক উল্টো বাদিকে হুমকী ধামকী দেয়। বিষয়টি বাদি তৎক্ষনিক অন্যান্যদের জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। প্রতারক নারীকে ধরে ফেলে। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে উক্ত স্থান থেকে প্রতারক নারীকে হেফাজতে নেন।



