খুমেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের ভাইবায় মব সৃষ্টি : পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণের দাবি উঠেছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আগত পরীক্ষার্থীদের বাধা প্রদান, ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানি করায় অনেকেই ভাইভা না দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ না করলে ভুক্তভোগীরা আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তকবীর এন্টারপ্রাইজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আহ্বান করা তিনটি লটে মোট ১৮৪ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষার্থীদের ভাইভা পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয় গত ২ মার্চ, ৪ মার্চ এবং ৮ মার্চ ।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ২ মার্চ পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড-এর কিছু কর্মচারী ও তাদের সঙ্গে থাকা বহিরাগত ব্যক্তিরা পরীক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত ও হয়রানি করে। এমনকি নারী ব্যক্তিদের সামনে এনে পুরুষ পরীক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে বিব্রত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে অনেক পরীক্ষার্থী ভয়ে পরীক্ষা না দিয়েই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ মার্চ পরীক্ষার দিন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে তাদের পরীক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া হয় এবং হুমকি প্রদান করা হয়। এতে করে অনেকেই পরীক্ষার স্থানে পৌঁছাতে পারেননি। এছাড়া ৮ মার্চ পরীক্ষার দিনও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওইদিন মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড-এর কর্মচারী আসাদ দলবল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন বলে দাবি করা হয়। এতে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফ্রি সার্ভিসে কর্মরত প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন পরীক্ষার্থীও অংশ নিতে পারেনি।
এ বিষয়ে মেসার্স তকবীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো: ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই অনুপস্থিত কর্মচারীদের জন্য পুনরায় ভাইভা পরীক্ষা গ্রহণ করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অপর এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত (প্রা:) লিমিটেড দুইটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি বলে খুমেক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: কাজী মো: আইনুল ইসলাম বলেন, আমরা পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। যারা এসেছেন তাদের ভাইভা নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটা মূল্যায়ন কমিটি আছে যারা এখন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাবে। ভাইভায় অংশ নিতে না পারাদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেবোনা। তাদেরকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হবে।



