দৌলতপুর নগরঘাটে ফেরি পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে পুলিশের অভিযান

# বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান
# আফতাব নামে ১জন ফেরী কর্মচারীকে আটক #
স্টাফ রিপোর্টার : দৌলতপুর রেলিগেট নগরঘাটে ফেরি পারাপারে গাড়ী/যানবহন থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতপুর থানা পুলিশের অভিযান। বিকেলে নগরঘাট ফেরি ঘাটে ফেরিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য গাড়ির বিভিন্ন ড্রাইভারদের সাথে কথা বলেন। গাড়ি চালকরা জানান, আমাদের নিকট থেকে এই ফেরিতে জোর করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। আমরা জানতে চাইলে তারা আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে। টাকার রিসিট চাইলে সেটি আমাকে দিতে অস্বীকার জানায়।ফেরির উপরে কথা হয় কুষ্টিয়া ট -১১-১৪৯১গাড়ির ড্রাইভার জানান তার নিকট থেকে ৭শত টাকা ভাড়া নিয়েছে। যশোর ট ১১-৪৩১৩ নং গাড়ির ড্রাইভার জানান,আমার কাছ থেকে ৮শত টাকা ভাড়া নিয়েছে। গ্যাসের সিলিন্ডার বহনকারী ইজিবাইক ড্রাইভার জানান খালি গাড়ি যখন আমরা নিয়ে যাই তখন ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয় আর সিলিন্ডার নিয়ে ফেরার সময় ৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুস সোবাহান, দৌলতপুরের রনজিত কুমার জানান গাড়ি নিয়ে পার হতে ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। নৌকায় গুনতে হয় ১০ টাকা কিন্তু সরকারি ফেনীতেও গুনতে হয় ১০ টাকা তাহলে আমাদের লাভ কোথায়। গাড়ি চালকগন জানান রাতের বেলা যখন পারাপার হতে হয় তখন আরো বেশি টাকা গুনতে হয়। খুলনা সড়ক বিভাগের নগরঘাট ফেরি ঘাটে একপার থেকে অন্য পাড়ে যান যানবহন পারাপারের ভাড়ার হার সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে যানবাহন টেইলর বোঝাই অথবা খালি সরকারি টোল ১২৫ টাকা,হেভি ট্রাক বোঝাই অথবা খালি ১০০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক বোঝায় অথবা খালি ৫০ টাকা, মাইক্রোবাসের সরকারি টোল আটজন থেকে ১৫ জন বহনকারী গাড়ি সরকারি টোল ২০ টাকা, চার চাকার পিকআপ খালি অথবা বোঝাই সরকারি রেট বিশ টাকা, সিডান কার ব্যক্তিগত অথবা ভাড়ার বোঝাই অথবা খালি ১৫ টাকা, ৩/৪চাকার যেকোনো ধরনের মোটররাইড যান যেমন অটো,টেম্পু সিএনজি অটোরিকশা,অটো ভ্যান,ব্যাটারি চালিত ৩ অথবা ৪ চাকার যেকোনো ধরনের মটরাইজডযান ৫ টাকায় স্থলে নেয়া হচ্ছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।মোটরসাইকেল ও পায়ে চালিত ভ্যান ৫ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভার ও মানিকগন জানান বর্তমানে ট্রাকে তেমন আর আগের মত ব্যবসা নেই। তারপরও গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। যার কারণে গাড়ি চালিয়ে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই হচ্ছে দুষ্কর। দৌলতপুর থানার পুলিশ অফিসার ইনচার্স(ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৮ মার্চ ফেরিঘাটে এসে ঠিকাদারদের যানবহনের ভাড়া রেট চাট অনুযায়ী নিতে বলেছি। তারপরও তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ এসেছি।আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের উপরের স্যাররাও জানিয়েছেন এই ঘাট থেকে যানবাহনের পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ভাড়া মানে চাঁদাবাজির শামিল বলে আমার মনে হয়। এ বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরেজমিনে এসে এর সত্যতা পেয়েছি।আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তালিমুল হক বলেন,সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত যদি কোন ফেরিঘাটে ঠিকাদার আদায় করেন আমরা তার বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে ইজারা বাতিল করে দিব।ভুক্তভোগীগন যানবহনের চালক/মালিকগন অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।দৌলতপুর থানা পুলিশ আফতাব নামে একজন ফেরীর কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযানের পর পুলিশ চলে গেলে বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপে ফেরি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করেন।



