স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় জ্বালানি তেল সিন্ডিকেটের কবলে ক্রেতারা, কৃত্রিম সংকট অজুহাতে বাড়তি দামে জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রি

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান, দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধকে পুঁজি করে অজুহাত অসাধু জ্বালানি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন চালিত মোটরসাইকেলসহ সকল যানবাহনে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে দিঘলিয়া সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা তেল বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছেন। অধিকাংশ দোকানে এক থেকে দুই লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সেই তেলই প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। দিঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়নের হাজীগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোঃ রুবেল বলেন, “আগে যে দামে তেল কিনতাম এখন সেই তেল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। দোকানিরা বলছে সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছা করেই দাম বাড়াচ্ছে।” বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি এলাকার কৃষক আঃ কুদ্দুস মোল্লা বলেন, কৃষিকাজে সেচ মেশিন চালাতে ডিজেল দরকার হয়। কিন্তু এখন তেল পাওয়া যাচ্ছে কম, আর যে তেল পাওয়া যাচ্ছে তা আগের দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। এদিকে এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক গ্যাস ব্যবসায়ী দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার নেই বলে জানালেও পরিচিত বা নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংশোধিত স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার আলোকে মার্চ ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক স্বাক্ষরিত ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মার্চ মাসজুড়ে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দিঘলিয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়তি দামে তেল ও গ্যাস বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোনো প্রকার জ্বালানি তেল নেই, আবার ১০/২০ টাকা বেশি দিলে গোপন জায়গা থেকে এনে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এর ফলে চলতি বোরো ধানে সেচ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে বিজ্ঞমহলের অভিমত। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button