ইংগুইনাল হার্ণিয়া কি? আর করণীয় : ডাক্তার গাজী মিজানুর রহমান

রফিম এর বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। রিকশা চালিয়ে সংসার চলে।একদিন গোসলের সময় কুঁচকির কাছে ছোট একটা ফোলা লক্ষ্য করলেন। মাঝে মাঝে দাঁড়ালে বা কাশি দিলে একটু বের হয়ে আসে, আবার শুয়ে পড়লে ঢুকে যায়। স্ত্রী বলেছিল, “ডাক্তার দেখাও না?” রফিম হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। “ব্যথা তো করে না। কিছু না।” মাসের পর মাস কেটে গেল। ফোলাটা রয়ে গেল। মাঝে মাঝে একটু অস্বস্তি, কিন্তু ব্যথা নেই। তাই গুরুত্বও নেই। একদিন ভোরে হঠাৎ তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেন রফিক। কুঁচকির ফোলা শক্ত হয়ে গেছে, আর ভেতরে ঢুকছে না। বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা। পরিবারের সবাই ছুটে গেল হাসপাতালে।ডাক্তার দেখে বললেন, “এটা স্ট্র্যাঙ্গুলেটেড হার্ণিয়া। এখনই অপারেশন করতে হবে। দেরি হলে অন্ত্র নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”যে রোগটা এতদিন নীরবে ছিল, সেদিন হঠাৎ জরুরি অবস্থায় পরিণত হলো। ইংগুইনাল হার্ণিয়া কী? পেটের ভেতরের অন্ত্র বা চর্বি পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে কুঁচকির দিকে বের হয়ে আসাকে ইংগুইনাল হার্ণিয়া বলে। সাধারণ লক্ষণগুলো:ক্স কুঁচকিতে ফোলা বা গুটিক্স দাঁড়ালে বা কাশি দিলে ফোলা বড় হওয়াক্স শুয়ে পড়লে কমে যাওয়াক্স ভারী কাজ করলে অস্বস্তি অনেক সময় ব্যথা থাকে না, তাই মানুষ এটাকে অবহেলা করে।কিন্তু ঝুঁকি কোথায়? যদি হার্ণিয়া আটকে যায় (ওহপধৎপবৎধঃবফ) বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় (ঝঃৎধহমঁষধঃবফ), তখনক্স তীব্র ব্যথাক্স বমিক্স পেট ফাঁপাক্স অন্ত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এই অবস্থায় জরুরি অপারেশন ছাড়া উপায় থাকে না।চিকিৎসা কী?ইঙগুইনাল হার্ণিয়ার স্থায়ী চিকিৎসা একটাই Ñ অপারেশন। সময়মতো পরিকল্পিত অপারেশন করলে ঝুঁকি কম, সুস্থতাও দ্রুত। রফিম এখন সুস্থ। অপারেশন হয়েছে। কিন্তু তিনি একটাই কথা বলেনÑ“আগে করালে এত কষ্ট পেতে হতো না।”মনে রাখুন:ব্যথা না থাকলেও কুঁচকিতে অস্বাভাবিক ফোলা দেখলে দেরি না করে সার্জনের পরামর্শ নিন। সময়মতো সিদ্ধান্ত অনেক বড় বিপদ এড়াতে পারে।



