স্থানীয় সংবাদ

শ্রমিক সমাজকে ৫টি মৌলিক অধিকার প্রদানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে : অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

# সুবিধা বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বাসস্থান, ভাত, কাপড়, শিক্ষা ও চিকিৎসা এই ৫টি মৌলিক অধিকার সকলেরই প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রমিক সমাজ এ ৫টি অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে ন্যায্য অধিকার দিয়ে মানুষের মত মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য এ অধিকার দেয়া সরকার ও মালিক পক্ষের দায়িত্ব। এ অধিকারগুলো পাওয়া শ্রমিক সমাজের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিক সমাজকে এ অধিকার প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামের হুকুম হলো তুমি যা খাবে তোমার অধীনস্থ লোকদের তা খাওয়াবে। তুমি যে কাপড় পরবে তাদেরও তা পরাবে। এ নীতি বাস্তবায়ন করতে পারলেই শ্রমিক ও মালিক সবাই দুনিয়াতে যেমন শান্তি পাবে, তেমনি আখিরাতেও শান্তি হবে। আদালতে আখিরাতে জবাবদিহিতার মনোভাব নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদেরকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতায় গিয়ে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে। রোববার (৫ মার্চ) দুপুরে খুলনা মহানগরীর ৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
৭ নং ওয়ার্ড আমীর আলমগীর হোসাইন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম মনির, সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম ছোট্ট, সাগর ইসলাম, মো. সিয়াম প্রমুখ।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চে। কুরআন ও হাদিসে সততার সাথে কাজ করাকে ইবাদত এবং শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করাকে অপরিহার্য কর্তব্য বলা হয়েছে। ইসলামে শ্রমিককে ভাই হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের ওপর সামর্থ্যের বাইরে কাজের চাপ প্রয়োগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের সাথে খারাপ আচরণ না করা এবং তাদের মজুরি নিয়ে টালবাহানা করা হারাম। ইসলামে শ্রমিকদের অধিকার কেবল দয়া নয়, বরং মালিকের ওপর তাদের ন্যায্য পাওনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button