দৌলতপুরে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল নেতা রাশু নিহত : এলাকায় আতঙ্ক!

# বিভিন্ন আলামতকে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ #
# প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর #
# দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, জানাযা আজ দেয়ানা উত্তরপাড়া স্কুল মাঠ বাদ যোহর #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পুরাতন সাতক্ষীরা রোডস্থ কেডিএ কল্পতরু মাঠ সংলগ্ন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার পর দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা ও ইট-বালূ ব্যবসায়ী মের্সাস হ্যান্ডশেক এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী রাশিকুল আনাম রাশু। নিহত যুবদল নেতা রাশু ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দেয়ানা উত্তরপাড়া হোসেন শাহ্ রোডস্থ শাহী জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফুল আনামের কনিষ্ঠ পুত্র। দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হওয়া রাশু রাজনীতির বাইরে পেশা হিসাবে দীর্ঘ বছর ধরে ইট-বালুর ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। দিন-দুপুরে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা খুনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভিকটিম পরিবার, ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারা পাশাপাশি, সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাবেক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ,যুবদল নেতা এবং ইট-বালু ব্যবসায়ী রাশিকুল আনাম রাশুর নিহতের খবরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে খোজখবর নিতে ছুটে যান কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুৃলনা মহানগর ও দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাবেক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীবৃন্দ, শুভাকাংঙ্খি, বন্ধুবর, বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশাজীবি সাধারণ মানুষ। তারা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সমাবেদনা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি নিহতের বাড়ীতেও আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা ভীড় জমায়। নিহত যুবদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাদ যোহর মরহুম যুবদল নেতা রাশিকুল আনাম রাশুর জানাযা নামাজ দেয়ানা উত্তরপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হবার পর দাফন সম্পন্ন করা হবে।
নিহত রাশুর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শাকিল জানান, আমি রাশুর প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চাকুরী করছি। সে আমাকে নিজের আপন চাচার মতো ভালোবাসতো। আমিও তাকে নিজের ভাইপোর মতো ¯েœহ করতাম। প্রতিদিনের ন্যায় ভাইপো রবিবারও (১৬ মার্চ) যথাসময়ে ইটগোলায় আসে, ঠিক বেলা সাড়ে ১১ টার পর রাশু পাশের চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলো। আমি তখন গোলায় ছিলাম। ওই সময় তার সন্ধানে পাজ্ঞাবী পরা দ্ইু ব্যক্তি আসে, তাকে খোঁজাখুঁজি করে, ভেবেছিলাম, কাস্টমার হবে। ওই সময় গোলায় ইটের গাড়ী আসে। ইটের গাড়ির ম্যানেজার রাশুকে টাকার জন্য ফোন দেয়। তখন পাশের দোকান থেকে ইটের টাকার দেওয়ার জন্য রাশু আসলে, পূর্বে থেকে ওৎপেতে থাকা ওই দ্ইু ব্যক্তি পেছন থেকে তাদের মাজায় থাকা পিস্তল বের করে প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি করে, তৎপর রাশুর মাথায় ও শরীরে গুলি করে। ওই সময় আমি লাফিয়ে ধরতে গেলে আমার বুকের উপর পিস্তল ঠেকিয়ে ধরে এবং গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুবৃর্ত্তদের গুলিতে গুলিবৃদ্ধি রাশুকে তৎক্ষনিক স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক থাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। ওই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একাধীক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত জব্দের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে. পূর্বের কোনো শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল হতে জব্দকৃত আলামত, বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে আমরা তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো বলেও জানান তারা। পাশাপাশি, নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নিহতের মেঝ ভাই খুলনা মহানগর যুবদলের সদস্য আশিকুল আনাম আশু জানান, আমরা গোটা পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার পিতাসহ আমরা তিন ভাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একাধীক মামলার আসামী ছিলাম , জেল খেটেছি, কোর্টে হাজিরা দিয়েছি। ওই সময় আমরা বাড়ীতে ঘুমাতে পারি নাই, পুলিশ ঘরে থাকতে দেয়নি। ওই আমলে আমার ছোট ভাই বেঁচে ছিল, আজ আমার দল ক্ষমতায়, দিন-দুপুরে নিজ প্রতিষ্ঠানে আমার ভাইকে সস্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে ফেললো, এটা মেনে নিতে পারছি না। আমার ভাই কাজ করে খায়, ব্যবসা করে খায়, ওকে কেউ খারাপ বলতে পারবে না। ও মানুষের বিপদে পড়লেই দৌঁড়ে যায়। আমরা রাজনীতি করি, আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার ভাইয়ের খুনিদের সামনে দেখতে চাই, এটাই প্রশাসনের কাছে কঠোরভাবে আমাদের পরিবারের চাওয়া।
নিহতের বড় ভাই দৌলতপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক মুশফিকুল আনাম মিশু জানান, কি বলবো, বলার কনো ভাষা নেই। আমরা কাজ করে খাই। ছোট ভাই ইট-বালুর ব্যবসা করে। মেঝ ভাইয়ের মুদি দোকান আর আমার মুহসিন মোড়ে পারর্স পাতির দোকান। কোনো অপ-কার্যক্রমের সাথে আমরা জড়িত নই, একটাই অপরাধ মানুষ বিপদে পড়লে দৌড়ে উপকার করতে যায়। তারপরও দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ছোট ভাইকে সস্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে ফেললো। আমাদের উপর আর কত জুলুম চলবে, কত দিন চলবে, এর কি শেষ হবে না? ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমার গোটা পরিবার একাধীক মামলার আসামী, জেল খেটেছি। আজ বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, আজ দুর্দিনের পর সুদিন আসতেই দিন-দুপুরে নিজ প্রতিষ্ঠানে আমার ভাইকে সস্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে ফেললো এটা মেনে নিতে পারছি না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোরদাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফুল আনাম জানান, কি বলবো, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি জীবিত, আমার সামনে আমার ছোট ছেলেকে সন্ত্রাসীরা এসে গুলি করে মেরে ফেললো। দলের জন্য গোটা পরিবার জেল খেটেছি, একাধিক মামলার আসামী আমরা। আজ দল ক্ষমতায় এসেছে, আজ আমার ছেলে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো , তাকে গুলি করে মেরে ফেললো সন্ত্রাসীরা, এটা মেনে নিতে পারছিনা। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম মর্শিদ কামাল জানান, যুবদল নেতা রাশুসহ গোটা পরিবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের শাসনামলে হামলা, মামলা-জুলুম নির্যাতনের শিকার। তারা জেল-জুলুম খেটেছে। খুব দুর্দিনে, দু:সময়ে কর্মীরা তারা। আজ সু-সময়ে এসে যুবদল নেতা রাশু তার নিজ প্রতিষ্ঠানে দিবালোকে, প্রকাশ্যে খুন হবে, এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। পুলিশের নাগের ডগায় বসে অপরাধীরা, একের পর এক অপরাধ করছে, খুলনায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে, আর পুলিশ নিরব ভূমিকায়। এমন অবস্থায় আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না। পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে, প্রকৃত দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারতো, তবে অপরাধ প্রবণতা কমে আসতো। প্রশাসনের কাছে জোরদাবি জানাচ্ছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাশু হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি জানান, গতকাল সন্ত্রাসীরা টার্গেট করেই যুবদল নেতা রাশুকে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। যেভাবে খুলনা শহরে হত্যাকা- শুরু হয়েছে, তাতে করে না রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি বা সাধারন মানুষ কেউ নিরাপদ নই। আমরা এর থেকে খুলনাবাসী পরিত্রান চাই। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাতে ও বলতে চাই, যারা রাশুকে হত্যা করেছে, আমাদের শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করেছে, যুবদল নেতা মাহবুবকে হত্যা করেছে তাদের চিহিৃত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার এস.আই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিদের্শে খুমেক হাসপাতালে গিয়ে নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনর্জার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যাই এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করাসহ, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে আমরা তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়না তদন্ত সম্পন্ন মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো, পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

