স্থানীয় সংবাদ

রূপসায় তালাক প্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ধোঁকা দিয়ে নিজ নামে মিউটেশন করার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :
তালাকপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ৭ বছর পর সন্তানদের ধোঁকা দিয়ে জমির ওয়ারেশ দাবি করে নিজ নামে মিউটেশন (নামজারি) করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারেশগণের পক্ষে সাইফুল ইসলাম বকুল নামজারি বাতিলের দাবিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে খুলনার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ এর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং সিআর-৬৮/২৬, তারিখ ১৮/০২/২০২৬। ঘটনাটি রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের নৈহাটী গ্রামে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মোছাঃ আছিয়া বেগম তার স্বামী মোঃ নিজাম মল্লিকের সঙ্গে সাংসারিক বনিবনা না হওয়ায় ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ তালাক প্রদান করেন। তিনি তার তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও অসুস্থতার কারণে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আছিয়া বেগম মৃত্যুবরণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর পর মোঃ নিজাম মল্লিক (৫৫), পিতা-সামাদ মল্লিক, কৌশলে উপজেলা ভূমি অফিসে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে স্ত্রীর অংশের ০.২৫০ একর জমি নিজের নামে মিউটেশন করেন। মিউটেশন কেস নং ৪৪১৮ (ওঢ-ও)/২০২৫-২০২৬। মামলায় বলা হয়েছে, নৈহাটি মৌজার আরএস ৫১ নম্বর খতিয়ানের আছিয়া খাতুন জং মোঃ নিজাম মল্লিক ৬১৫ সহস্রাংশ জমি মৃত্যুর আগেও খাসের স্বত্বভুক্ত ও ভোগদখলকারী হিসেবে রেকর্ডভুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ওয়ারেশ হিসেবে তিন পুত্র সাইফুল ইসলাম বকুল, সুলাইমান ইসলাম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং এক কন্যা নাদিরা বেগম জীবিত রয়েছেন। কিন্তু বিবাদী মোঃ নিজাম মল্লিক ৪৪১৮ (ওঢ-ও)/২০২৫-২০২৬ নম্বর কেসের আওতায় ২০২৬-১০০০০৬ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৫১ ও ১৫২ নম্বর দাগের মোট ০.৩৬৬৪২৫ একর জমির মধ্যে থেকে ০.২৫০ একর জমি নিজের নামে নথিভুক্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে তালাকের ১০ বছর পর তিনি পরিকল্পিতভাবে মিউটেশন সম্পন্ন করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিবাদী নিজাম মল্লিক তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে সেখানে থাকা গাছপালা ও রোপণকৃত ফসল নষ্ট করেন এবং সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেন। এতে পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সময় তারা বাধা দিতে গেলে বিবাদী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন দূর্বৃত্ত তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছেন। পরিবার আশা করছেন দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে। ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে জমির মিউটেশন বাতিল এবং আইনসিদ্ধ ওয়ারেশ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button