সাংবাদিক বেনজীন খানকে অপদস্থকারী আইনজীবী খোকন ও তার ছেলেকে শোকজ

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা বেনজীন খানকে আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অপদস্ত করা সেই বাবা-ছেলে আইনজীবীকে শোকজ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। শোকজের জবাব চেয়ে তিনদিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই দুজন আইনজীবী হলেন আব্দুল লতিফ খোকন ও তার ছেলে মেহেদী ইমাম বাপ্পী। এদিকে, দুই আইনজীবীকে বাঁচাতে তপু নামে একজন আইনজীবী উল্টো সাংবাদিক বেনজীন খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আইনজীবী সমিতিতে। সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ গফুর। অ্যাডভোকেট এম এ গফুর বলেছেন,গত ২৪ মার্চ সাংবাদিক বেনজীন খান সমিতির কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি আইনজীবী আব্দুল লতিফ খোকন ও বাপ্পীর বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারমুখি আচরণ এবং শারীরিকভাবে হেনেস্তার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ২৫ মার্চ তিন দিনের সময় দিয়ে ওই দুই আইনজীবীকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব গ্রহণযোগ্য না হলে তাদেরকে জেল আইনজীবী সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি আরো বলেছেন, সাংবাদিক বেনজিন খান যশোরের একজন সম্মানিত মানুষ। তাকে প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে অপদস্ত করা এবং হুমকি দেয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। এর আগেও অসাদাচারনের অভিযোগে অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ খোকনকে সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মতো একই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে সমিতির কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে একটি সূরাহা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, বেনজীন খানের প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট তপু। তাকে দিয়ে আইনজীবী আব্দুল লতিফ খোকন সমিতির কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বেনজীন খানের বিরুদ্ধে হুমকি ধামকির অভিযোগ এনেছেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটি মামলায় হাজিরা দিতে জজ আদালতে যান বেনজীন খান। কোর্টে হাজিরা শেষে আদালতের বারান্দায় দেখা হয় বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল লতিফ খোকন ও তার ছেলে আইনজীবী মেহেদী ইমাম বাপ্পীর সঙ্গে। তারা সাংবাদিক বেনজীন খানের পরিচিত। তিনি হাসিমুখে আইনজীবী আব্দুল লতিফ খোকনের দিকে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করেন এবং বলেন, ‘একদিন তো আমাদের সকলকে কবরে যেতে হবে।’ এটা শোনার সাথে সাথে তিনি অগ্নিমূর্তি ধারন করেন এবং বেনজীন খানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তার দিকে তেড়ে যান। সেই সাথে যোগ দেন তার ছেলে মেহেদী ইমাম বাপ্পী। তিনিও মারার জন্য রুখে যান এবং ধাক্কা দেন। সে সময় বেনজীন খান বলতে থাকেন,‘শরীরে হাত দিয়ে কথা বলা এটা কোন ভদ্রতা?’ এটা বলায় তারা আরো ক্ষুব্ধ হন এবং সেখানে থাকা মানুষজনের সামনে নানাভাবে হুমকি দেন। বলতে থাকেন, ‘ আপনি সাংবাদিক যা পারেন লেখেন, দড়াটানায় আমার নামে বক্তৃতা দেন। এতে আমাদের কিছুই হবে না।’ এছাড়া, নানা অপমানজনক কথাবার্তা বলাতে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। আশপাশের লোকজনও দাঁড়িয়ে দেখতে থাকেন। অপমান অপদস্ত হয়ে তিনি বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ফিরে যান। এবং জেলা সমিতিতে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।



