স্থানীয় সংবাদ

দলের সুসময়ে এসে আমার রাশু খুন হলো, খুনিরা এখনো অধরা!

# দৌলতপুরে নিহত যুবদল নেতা রাশুর পিতা শরিফুল আনাম #
# মামলা দায়ের, হত্যায় জড়িত থাকায় অভিযোগে গ্রেপ্তার ১,
# রিমান্ডে আসামীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ন তথ্য ও মটিভ নিয়ে কাজ করছে পুুলিশ #
# দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত খুনিদের সামনে দেখতে চাই ভিকটিম পরিবার #

স্টাফ রিপোর্টার : খুনিরা ঈদের ৫ দিন আগে আমার কনিষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করলো। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ টি বছর আমরা ঘরে ঘুমাতে পারিনি। তৎকালিন আওয়ামী পুলিশ আমাদেরকে ঘরে ঘুমাতে দেয়নি। মিথ্যা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি বহুবার। বহু মামলায় আসামী করা হয়েছে আমাদের। এতদাঞ্চলে দলের দুঃসময়ে আমার পরিবার বেশি নির্যাতিত। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কত ভারী সে প্রশ্ন রেখে গেলাম। আমরা দলের দুঃসময়ের কর্মী, আজ দলের সুসময়ে এসে সন্তান হারালাম। খুনিরা কেড়ে নিল আমার আদরের সন্তান রাসুকে। গত, ১৬ মার্চ (সোমবার) বেলা ১১ টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে রাসুকে। আমি রাসুর জানাজা নামাযের সামনের সারিতে দাড়িয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে সেদিন বলেছিলাম আজ দলের সুসময়ে আমার সন্তান রাসুকে হারালাম, আমার সন্তানকে কেন হত্যা করা হলো, এর কইফিয়ত আমি চাই। আমার সন্তানের হত্যার ১৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত প্রকৃত খুনি কে, কার ইন্ধনে বা পরিকল্পনায়, কি কারনে আমার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর পুলিশ প্রশাসন এখনও পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারলো না। মামলা করেছি, হত্যার ১৩ দিন কেটে গেলেও মামলা আলোর মুখ দেখেনি।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মামলার বাদি ও নিহত দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদল নেতা রাশিকুল আনাম রাশুর পিতা দৌলতপুর থানা বিএনপির ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি শরিফুল আনামের আবেগঘন কথোপকথনে তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোরদাবি জানাচ্ছি। রাসু হত্যাকা-ের ১৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কিভাবে খুনিরা লাপাত্তা? প্রশাসনের প্রতি এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পুরাতন সাতক্ষীরা রোডস্থ কেডিএ কল্পতরু মাঠ সংলগ্ন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত, সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার পর দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা ও ইট-বালু ব্যবসায়ী মের্সাস হ্যান্ডশেক এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী রাশিকুল আনাম রাশু। নিহত রাশুর পিতা গত, ১৯ মার্চ দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ ও নগর গোয়ান্দা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গত, ১৯ মার্চ (বুধবার) বিকালে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন এলাকা থেকে আলোচিত যুবদল নেতা রাশিকুল আনাম রাশুর হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসমাঈল হোসেন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এ হত্যার মামলা সম্পর্কে আসামী গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তন্ময় কুমার বসু খুলনা মূখ্য মহানগর আদালতে আসামীর রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির পর বিজ্ঞ আদালত আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে রাসু হত্যাকা-ের ব্যাপার আসামী গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে, আসামীর দেওয়া তথ্য ও হত্যার বিভিন্ন মটিভকে সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকা-ে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশ সকলকে আশ^স্ত করে।
সার্বিক বিষয়ে দৌলতপুর থানা বিএনপির সাঃ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন বলেন, দলের দুর্দিনে, আন্দোলন সংগ্রামে, রাজপথে থাকার কর্মীদের মধ্যে রাসু অন্যতম । দলের দুর্দিনের ত্যাগী কর্মী, আজ দলের সুসময়ে এসেও হত্যার স্বীকার হলো এটা মেনে নেওয়ার মতো নয় এবং অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খুলনা আজ খুনের নগরীতে পরিনত হয়েছে। ৫ আগষ্টের পর থেকে খুলনায় একের পর এক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেই চলছে। মার্কেটের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর ঢুকে গুলি করে হত্যার করা হচ্ছে, বাড়ীর সামনে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হত্যা করা হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? খুলনা প্রকাশ্যে একের পর এক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ভূমিকা সন্তোষ জনক নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যুবদল নেতা রাশু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোরদার দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের বড় ভাই দৌলতপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম- আহ্বায়ক মুশফিকুল আনাম মিশু জানান, আমার ছোট ভাই রাশুর হত্যাকা-ের ১৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত খুনিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাশু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোরদার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তন্ময় কুমার বসু জানান, রাসু হত্যারয় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামীকে দিঘলিয়া উপজেলা হতে গ্রেপ্তার করি। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আসামীর রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত শুনানির পর দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেছে। ওই তথ্য ও বিভিন্ন মটিমকে সামনে রেখে আমাদের কার্যক্রম চলমান। হত্যাকা-ে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএফএম জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত রাসুর পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন বিষয়ে সামনে রেখে আমার তদন্ত চলমান রেখেছি। হত্যা মামলার জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে ওই আসামী গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেছে। আসামীর দেওয়া তথ্য ও বিভিন্ন মটিভকে সামনে নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উৎঘটনে সক্ষম হবো।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপির) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান জানান, রাসু হত্যাকা-ের আসামীদের শণাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button