স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ দশ শতাংশ

মুখ খুলছেনা ডিপো কতৃপক্ষ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ৩৫ ট্যাগ অফিসার

এম সাইফুল ইসলাম ঃ খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। সংকট এখন আর শুধু ফিলিং স্টেশনকেন্দ্রিক নয়, বরং নগরীর আশপাশের ডিপোগুলোতেও সরবরাহ সংকটের চিত্র দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির দাবি, চাহিদার তুলনায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে মাত্র ১০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে নগরীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনে অস্বাভাবিক ভিড়, দীর্ঘ সারি, অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোমবার নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেল নিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অধিকাংশ গ্রাহক পাচ্ছেন সীমিত পরিমাণ তেল। অনেক স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিবহন শ্রমিক ও পেশাজীবীরা। দৈনিক আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত পড়ায় নগরীতে অস্থিরতা বাড়ছে। এ সংকটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে নগরীর নতুন রাস্তা এলাকার মেসার্স ফিলিং স্টেশনে তেল আগে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’জন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তেল পরিবেশক সমিতি ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। চলমান সংকট নিয়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। প্রতিবেদক রবিবার ও সোমবার একাধিকবার ডিপোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যমুনা ডিপোর এজিএম আব্দুল বাকি এবং ডিপো ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দী কোনো বক্তব্য না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের মালিক ও খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস বলেন, সংকট শুরুর পর থেকে চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে মাত্র ১০ শতাংশ জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাই মোহাম্মাদ আনাস জানান, খুলনার ৩৫টি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও দাবি করেন, “গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুলনায় জ্বালানি সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে জনচাপের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তেল না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পরিবহন শ্রমিক, মোটরসাইকেল চালক এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লাইনের কারণে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে খুলনার জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button