স্থানীয় সংবাদ

মোংলায় হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের : গ্রেফতার ১

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় একজন কে গ্রেফতার করে সোমবার আদালতে প্রেরন করেছে। ঘটনা বিষয়ে হাসপাতাল ও থানা পুলিশ জানায়, বিষপান করা একজন রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রবিবার ভোরে হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁর স্বজনরা। এ সময় জরুরী বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনুপম মজুমদারের সাথে রোগীর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। এবং জরুরী বিভাগে ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা কক্ষের ভেতরে থাকা চেয়ার ও কাঠের টুল তার দিকে এলোপাতাড়ি ছুড়ে মারেন । এতে আহত হন চিকিৎসক। জরুরী বিভাগের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। আহত চিকিৎসককে হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক অনুপম বাদি হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনাম আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোঃ হাফিজুর রহমান মানিক হোসেন (৩৭) নামে একজনকে আটক করেছে। সোমবার দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়। ঘটনা বিষয়ে হাসপাতালে থাকা প্রর্ত্যক্ষদর্শী তারেক বিন সুলতান বলেন, আমি ৩ দিন ধরে হাসপাতালে মায়ের সাথে আছি। মা অসুস্থ। ফজরের নামাজ পড়তে যাবো সে সময় নিচে জরুরী বিভাগের সামনে হট্টগোল দেখতে পাই । একজন বিষপান করা রোগী আসে। স্বজনরা কর্তব্যবরত চিকিৎসকে ডাকা ডাকি করে । চিকিৎসক অন্যরুমে ঘুমে ছিলো চিকিৎসক। অনেক সময় পর পাশের রুম থেকে এসে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে জরুরী বিভাগে ঢুকে মোবাইল নিয়ে মোবাইল চাপাচাপিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি রোগীকে রোগীর সাথে থাকা লোকজনের মধ্যে দুইজনকে দেখেেিছ বিষপান করা স্থানের ওয়াস খানায় তাদের চিকিৎসা দিতে। তখন পাশে কোন চিকিৎসক ছিল না বা হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কেউ ছিল না। পরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে ডাক্তারের সাথে এবং অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে । তবে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন রোগীরা আসে চিকিৎসা নিতে ডাক্তার মুল্যায়ন করে না। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ’দুঃখজনক ও অনাকাংখিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের ভিতরে এমন সহিংসতা স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং এটি কর্মী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তিনি এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার এসআই মোঃ মহররম আলি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে এক অভিযুক্তকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button