মণিরামপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এতিমের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ মণিরামপুরে এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোদাচ্ছেদ গাজী মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের দেবীদাসপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
জানা গেছে, ২০২৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার আওতায় মণিরামপুর উপজেলার ৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৭ টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১ টন করে। এসব চাউল এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বাকোশপোল এলাকার দুটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ টন চাউল বরাদ্দ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন মোদাচ্ছেদ গাজী।কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান দুটি হলোÍ
১) বাকোশপোল বালক-বালিকা এতিমখানা
২) বাকোশপোল হাফেজিখানা মাদ্রাসা
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের কোনো কার্যক্রম বা অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কাগজপত্রে বাকোশপোল বালক-বালিকা এতিমখানার সভাপতি হিসেবে মো. আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে সরেজমিনে এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। মো. আব্দুল্লাহ জানান, মোদাচ্ছেদ গাজী সরকারি বরাদ্দের কথা বলে তার কাছ থেকে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন, কিন্তু কী বরাদ্দ এসেছে সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, তার নামে ১ টন চাউল বরাদ্দ হয়েছে। এ সময় মোদাচ্ছেদ গাজী তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন। মো. আব্দুল্লাহ আরও জানান, তার পরিচালনায় বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, কাগজে বাকোশপোল হাফেজিখানা মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে মোদাচ্ছেদ গাজীর নাম উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে এই নামে বাকোশপোল এলাকায় কোনো মাদ্রাসা বা এতিমখানা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় বর্তমানে দুটি মাদ্রাসা রয়েছেÍ
১) বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা
২) বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা
বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মফিজুর রহমান বলেন,
মোদাচ্ছেদ গাজী আমাদের মাদ্রাসার কোনো দায়িত্বে নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো চাউল বরাদ্দের বিষয়েও আমরা কিছু জানি না। আমাদের মাদ্রাসার পূর্ব নাম ছিল ‘বাকোশপোল হাফেজিয়া মাদ্রাসা’। তিনি হয়তো অসৎ উদ্দেশ্যে এই বরাদ্দ নিয়েছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, যাতে ভবিষ্যতে এতিমদের হক কেউ আর আত্মসাৎ করতে না পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা (পিতা: আদম আলী বিশ্বাস), শরিফুল ইসলাম (পিতা: সাদেকুর রহমান), হাদিউজ্জামান (পিতা: মৃত লুৎফর রহমান) ও সাইমুন ইসলাম (পিতা: আবুল কাশেম)সহ অনেকে বলেন, এতিমদের প্রাপ্য ত্রাণ আত্মসাৎ একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে মোদাচ্ছেদ গাজী নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন,আমি দুই মাদ্রাসায় ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তবে বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মফিজুর রহমান বলেন, আমরা কোন চাউল বাবদ কোন টাকা পায় নি। এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন,এই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাদের জানানো হবে এবং দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এবং তিনি পিআইও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
তবে পিআইও অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব বরাদ্দের তালিকা উপজেলা প্রশাসন থেকেই প্রস্তুত করে জেলায় পাঠানো হয় এবং এতে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছেÍতালিকা প্রস্তুত ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এই দায় এড়াতে পারে? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এতিমদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।



