স্থানীয় সংবাদ

চিতলমারীর নিজাম হত্যার বিচার দাবি ভাইয়ের

# সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ #

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাগেরহাটের চিতলমারীর চিঙ্গড়ী গ্রামের নিজাম বিশ্বাস হত্যার বিচার ও মাদক কারবারী মঞ্জুরুল আলম শেখ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মোঃ আসাব উদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চিঙ্গড়ী গ্রামের বাসিন্দা বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল মঞ্জুরুল আলম শেখ, তার চাচাতো ভাই বাবলু শেখ, মুজাহিদ শেখ, ভাইপো আরিফ শেখ, জাহিদ শেখ, রফিক শেখ, রিপন শেখ ও কালুসহ তার বাহিনীর সবাই মাদক ব্যবসায়ী। এই মঞ্জুরুল আলম শেখ প্রথমে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরীতে যোগদান করে। তার আচরণ ভালো না হওয়ায় তাকে চাকরী থেকে বরখাস্ত হয়। চাকরী হারিয়ে সে এলাকায় ফিরে মাদকের ব্যবসা শুরু করে। একই সঙ্গে অন্যের জমি দখল, মারপিটসহ সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। এলাকাজুড়ে গড়ে তোলে মাদকের সিন্ডিকেট। তার চাচাতো ভাই বাবলু ও মুজাহিদসহ একাধিক মাদক কারবারী একাধিকবার যৌথ বাহিনী ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। মাদক মামলায় মুজাহিদ বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তাদের মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় তারা একের পর এক হামলা চালিয়ে আমাদের পরিবারের অনেককে হত্যাসহ পঙ্গু করে দিয়েছে। আসাব বলেন, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী আমার আপন ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন বিশ্বাসের উপর হামলা করে মঞ্জুরুল আলম শেখের বাহিনী। তারা নিজামের হাত পা ভেঙ্গে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে ২৮ জানুয়ারী সে নিহত হয়। এই ঘটনায় আমরা চিতলমারী থানায় মঞ্জুরুল আলম শেখকে এক নম্বর আসামী করে ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করি। এই মামলায় পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করে। হামলায় চাচাতো ভাইদের মধ্যে পান্না বিশ্বাস এখনও শয্যাশায়ী এবং টিনু পঙ্গু হয়ে জীবন যাপন করছে। নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস হত্যা মামলা দায়েরের পর মঞ্জুরুল আলম শেখ গং আরও বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মামলা থেকে রেহাই পেতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে। কিন্তু এতে পেরে না ওঠায় গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে আমার চাচাতো ভাই মিতুল বিশ্বাসের মেয়ের বিয়ে চলাকালে মঞ্জুরুল আলম শেখের বাহিনী সেখানে হামলা করে। তারা বিয়ে পন্ড করে দিয়ে লুটপাট চালায়। বিয়ে বাড়িতে ওই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন এসে মঞ্জুরুল আলম শেখসহ তার পরিবারের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা জোরদার করার জন্য মঞ্জুরুল আলম শেখ তার প্রতিবন্ধি ভাইপো রাজিব শেখ (২২)কে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে চিতলমারী থানায় গত ২৮ মার্চ হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করে। এই মামলায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলায় দু’ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর মঞ্জুরুল আলম শেখ ও তার বাহিনীর সদস্যরা আমাদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে আমরা এখন বাড়িছাড়া। থানায় যেয়ে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছি না।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button