স্থানীয় সংবাদ

নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলনায় বাড়ল এলপিজির দাম

# ৩৮৭ টাকার বদলে বাড়তি নিচ্ছে ৪০০ টাকা
# ক্ষুব্ধ নগরীর ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা

এম সাইফুল ইসলাম ঃ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে এলপিজি গ্যাসের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও খুলনায় তার আগেই খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি ঘোষণায় ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও অনেক বিক্রেতা ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছেন বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ঘোষণার পরপরই কয়েকটি দোকানে পুরনো দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নতুন দামে বিক্রি শুরু করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি, দৌলতপুর, খালিশপুর ও নিরালা এলাকার কয়েকজন ক্রেতা জানান, ঘোষিত নতুন দাম অনুযায়ী ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দোকানদার আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও পরিবহন খরচ দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। খালিশপুর এলাকার গৃহিণী রুবিনা খাতুন বলেন, বিইআরসি বলেছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে দাম বাড়বে। কিন্তু দুপুর থেকেই দোকানদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩৮৭ টাকার জায়গায় ৪০০ টাকা নিচ্ছে। চাকরিজীবী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই যদি দাম বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তো মানুষ যাবে কোথায়? এটা একধরনের লুটপাট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘোষণার পরপরই কিছু বিক্রেতা দোকানে থাকা মজুত সিলিন্ডার সরিয়ে ফেলেন কিংবা বিক্রি স্থগিত রাখেন। পরে নতুন দামে বিক্রি শুরু করেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। নগরীর নিরালা এলাকার এক ক্রেতা জানান, দোকানদার বলছে, এখন আর পুরনো দামে বিক্রি করবে না। অথচ সন্ধ্যা ৬টার আগে দাম বাড়ানোর অনুমতি নেই। এ বিষয়ে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার খবর আগেই চলে আসে। ফলে তারা আগের অর্ডারের দামের সাথে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করে নতুন দাম নিচ্ছেন। এক বিক্রেতা বলেন, “গ্যাস কোম্পানির লোকজন দাম বাড়ার কথা আগেই জানিয়েছে। তাই পুরনো দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবে।” তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে নেওয়া অনৈতিক ও অবৈধ। খুলনার সচেতন মহল বলছে, সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। খুলনা নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বলেন, দাম বাড়লে সেটি নির্ধারিত সময় থেকেই কার্যকর হবে। আগেই বাড়ানো মানে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার আয়োজন।”এদিকে দাম বৃদ্ধির জন্য প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরী কমিশনের ঘোষণা ব্যতীত দেশের সকল প্রাইভেট গ্যাস কোম্পানী গ্যাসের মূল্য ৪০০ টাকা বৃদ্ধি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ব বাজার ও যুদ্ধের অযুহাতে একসঙ্গে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি করায় এ যেন ‘মরার পরে খাড়ার ঘা’। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় ধ্বস নামবে। সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। অনতি বিলম্ভে গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিবৃতিদাতারা হলেন, খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মোঃ তোবারেক হোসেন তপু , সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন, মোঃ হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওদুদ মিয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button