নৈহাটির জনগুরুত্বপূর্ণ জিয়া খালের পুনঃসংস্কারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

# রূপসায় আজিজুল বারী হেলাল #
রূপসা প্রতিনিধি : খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য,বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ জিয়া খালের পুনঃসংস্কারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই খাল শুধু একটি জলাধার বা পানি চলাচলের পথ নয়, বরং এটি নৈহাটি ইউনিয়নের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণরেখা। খালটি পুনঃসংস্কার করা গেলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল ও জলাশয়ে পানির প্রবাহ নিশ্চিত হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, একটি অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈহাটির জিয়া খাল দীর্ঘদিন অবহেলা, ভরাট ও অযতেœ তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। ফলে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পান না, অন্যদিকে বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় ফসলি জমি, বিল ও নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় পড়ে। এতে কৃষকরা প্রতি বছর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমিতে ফসল ফলান, কিন্তু কখনও পানির অভাব, কখনও অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা, আবার কখনও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা চরম কষ্টে দিন পার করছেন। কৃষককে বাঁচাতে হলে কৃষির মৌলিক অবকাঠামো, বিশেষ করে খাল, বিল, ড্রেনেজ ও সেচ ব্যবস্থাকে টেকসইভাবে গড়ে তুলতে হবে।আজিজুল বারী হেলাল বলেন, রূপসা একটি সম্ভাবনাময় কৃষি অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার কৃষকরা পরিশ্রমী, মাটি উর্বর, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জিয়া খালের পুনঃসংস্কার বাস্তবায়িত হলে শুধু কৃষকরাই নয়, এলাকার সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। এতে বিলগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে, জলাবদ্ধতা কমবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল, কৃষকের দল, সাধারণ মানুষের দল। তাই জনগণের কল্যাণে যেসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নে দল সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, নৈহাটি ইউনিয়নের মানুষ বহুদিন ধরে জিয়া খালের পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দাবি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক দাবি নয়; এটি পুরো এলাকার কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি। সেই দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নৈহাটি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোডাউন মোড় বিএনপির কার্যালয়ে রূপসা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, যুগ্ম আহ্বায়ক রয়েল আজম, হুমায়ূন কবীর, রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা এসএম আঃ মালেক, মহিউদ্দীন মিন্টু, শেখ মোঃ আবু সাঈদ, খান আনোয়ার হোসেন, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, শাহালম ভূইয়া, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সরদার শিহাবুল ইসলাম, সাবেক মহিলাদল নেত্রী রহিমা আক্তার নয়ন, জাহিদুল ইসলাম রবি, আরিফ মোল্যা, শামীম হাসান, কবীর শেখ, তরিকুল ইসলাম সুমন, আঃ হালিম মোড়ল, আবু সাঈদ, রাজু দাস, নাঈম আহম্মেদ, আজগর হোসেন, মাহফুজুর রহমান, বাদল, মহসিন, মোঃ মোশাররফ শেখ, জাহাঙ্গীর শেখ, কবীর খান, আলমগীর, মান্নান, মাহফুজুর, ইউসুফ, নিজাম, মোজাফফর প্রমুখ।


