খুলনায় ১২০ টাকার অকটেন ২১০ টাকা!

মিথ্যা তথ্যে সরবরাহ হচ্ছে জ্বালানি তেল
কালোবাজারিদের সিন্ডিকেটে অস্থির তেলের বাজার
স্টাফ রিপোর্টার : অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন রূপসা সেতু সংলগ্ন এলাকায় এক নারী ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস আল মাহদীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে “মাই ম্যাক্সসিস” নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোছাঃ রেশমা বেগমকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ সময় প্রমাণিত হয় যে, তিনি প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকার স্থলে ২১০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৯০ টাকা বেশি। এ অপরাধে তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) খুলনা মেট্রো শাখার তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। সূত্র জানায়, দ-িত রেশমা বেগমের স্বামী শরিফুল ইসলাম খুলনা বন বিভাগের স্পিডবোটের চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ সুবাদে সরকারি প্রয়োজনের কথা বলে খুলনার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করে তার স্ত্রীর দোকানে এনে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করতেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রাত ১০টার পর খুলনার যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে প্রতি ব্যারেল (১৯০ লিটার) প্রায় ৩৮ হাজার টাকা মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করে তা খুচরা বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি করা হতো। অপরদিকে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহের অভিযোগে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন জিরো পয়েন্ট এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মেসার্স শিকদার ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সিএনজি পাম্পে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে মেসার্স গালিব অয়েল এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল জব্বারকে আটক করা হয়। তিনি জোহরা খাতুন শিশু বিদ্যানিকেতন বিদ্যালয়ের নামে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে তা নিজ দোকানে বেশি দামে বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে বটিয়াঘাটা উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শোয়েব শাত-ঈল ইভানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদাল দ-বিধির ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকা-ে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। খুলনা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



