স্থানীয় সংবাদ

নির্দেশনা উপেক্ষা করে খুলনা নগরীতে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা

# উপেক্ষিত নিয়ম, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল
# বড় ঝূঁকিতে নারী উদ্যোক্তারা

স্টাফ রিপোর্টারঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে সংকট। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কয়েকটি নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় শপিং মল, বিপণিবিতানসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়। তবে সরকারের এই নির্দেশনা কার্যত মানছে না খুলনা নগরীর শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো। সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকান ও শোরুমের ভেতর-বাইরে এখনও অতিরিক্ত আলো এবং ডেকোরেটিভ লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে বাহিরের অংশে ঝলমলে এলইডি লাইট, সাইনবোর্ড লাইট এবং শোরুম ডেকোরেশন লাইট রাতের নগরীকে চোখধাঁধানো করে তুলেছে। এদিকে সরকারি নির্ধারিত সময়সূচি অমান্য করে খুলনা মহানগরীর বড় বাজার সংলগ্ন হেলাতলা মসজিদ মার্কেটের একাধিক দোকান নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা রাখার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দোকানপাট খোলার সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও দেখা গেছে, রাত ৮টা পর্যন্ত অনেক দোকান খোলা রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে বেচাকেনা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে অযথা ভিড় বাড়ছে, যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। তবে নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময় কমিয়ে দিলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রমনী ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী নিশিতা মন্ডল বলেন, “একজন নারী উদ্যোক্তার দোকানের আলো শুধু ব্যবসা না, একটা পরিবারের স্বপ্ন জ্বলে সেখানে। সেই আলোটা নিভে যেতে দেবেন না। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা ছোট উদ্যোক্তাদের বাঁচার সময়।” ফ্যাশন জোন বাই লিন্ডার স্বত্বাধিকারী ফাতেমা তুজ জোহরা লিন্ডা বলেন, “এক তৃতীয়াংশ মানুষ সন্ধ্যায় বের হয়, তারাই শোরুমের আসল কাস্টমার। আর রেস্টুরেন্টগুলো যেভাবে আলোকসজ্জা ও এসি চালিয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা করছে, তাহলে আমাদের মতো ছোট উদ্যোক্তাদের অপরাধ কোথায়?” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং ও সবার জন্য সমানভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button