আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এখন থেকেই গবাদিপশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত খামারীরা

শেখ ফেরদৌস রহমান: পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় এখন থেকেই গবাদি পশুর পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছে। এছাড়া বর্তমানে খোলা বাজারে কেসিসি কর্তৃক ৭৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংসর দাম নির্ধারণ করলেও সময় বিশেষ ৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ভালো দাম পাওয়া জন্য খামারিরা আশা দেখছে। এ দিকে খুলনা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কর্তক জানা গেছে গত বছরের তুলনায় এবছর খুলনা বিভাগে আরও বেশি কোরবানির যোগ্য গবাদি পশু প্রস্তুত হচ্ছে। যার সঠিক তালিকা আগামী সপ্তাহ নাগাদ প্রকাশ করা যাবে। এখনও গননা চলছে। তবে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী খুলনায় প্রায় ১১ হাজারের মত ছোট বড়, খামার চলছে। তবে, খামারিরা বলছেন, পশুর খাদ্য ও লালন পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। এছাড়া ইতোমধ্যে খোলা বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দর ও খাসি মাংস ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায় দিঘলিয়া এলাকায় ওয়াসিম উদ্দিন খামারিতে কোরবানির যোগ্য ৫টি পুষ্ঠবান গরু পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বলেন, সব সময় পরিস্কার পচ্ছিন্নতার মধ্যে পশু পালন করি। এখন বাজার দর হিসেবে একটি গরুর জন্য প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকা থেকে ৩শ টাকার মত খাবার প্রয়োজন। যদি আপনি সব খাদ্য ক্রয় করেন। আমরা অধিকাংস সময় ঘাসসহ আশেপাশের বাড়ীর ভাতের মাড়, খড়-কুটা চিটা গুড় দিয়ে খাবার দিলে একটু কম খরচ হয়। তবে শেষ মুহুর্তে আর দেড় মাস সময় আছে এই সময়ে গরুদের পেট পুরে বিভিন্ন খাবার দেয়া হচ্ছে। সয়াবিন খৈল, ভুট্রা,গমের ভুষি, ডালের গুড়া, ঘাষসহ অনেক ধরনের খাবার দিতে হয়।এছাড়া এখন গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খরচ সহ সামন্য কিছু লাভ হলে পশু গুলো ছেড়ে দিব। এর আগে বাড়ী থেকে ব্যপারীরা এসে গরু ক্রয় করে নিয়ে যায়। এসব ব্যপারিরা ঈদ সামনে রেখে বাড়ী বাড়ী যেয়ে গরু ক্রয় করে। এর মধ্যে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে গরু ক্রয় করতে ব্যাপারিরা খামারে এসসেছে গরু অনুযায়ী যোগ্য দাম দিতে। কিন্তু নানা কৌশল অবলম্বন করে । যে কারণে এবছর আমি নিজেই গরু হাটে নিয়ে বিক্রি করতে চাই। আশাবাদি যে ভাল দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছি। একই চিত্র দেখা ডুমুরিয়া এলাকার মধু রঞ্জন নামে একজন খামারীর খামারে। তার খামারে প্রায় অর্ধ শতাাধিক মত ছাগল, ভেড়া আছে। তিনি বলেন, আমার কাছে সব থেকে বড় দুটি খাসি আছে যার নাম তোপুড়ি আমি দুটি ছাগল এবছর জোড়া ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে চাই। এই ছাগল দুটি দেখতে খুব চমৎকার সুঠাম দেহ যে দেখবে তার পছন্দ হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব পশু আছে আমরা সেসব ঈদ সামনে রেখে বিক্রি করব। ভালো দামের আশা তো থাকবে সকলের। ছাগলের জন্য বেশি বাড়তি খাবার খরচ হয়না ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দিলে তার খেয়ে আসতে পারে। তারপরও বাড়তি খাবার দিতে হয়। আর ঈদ সামনে রেখে বেশি খাবার দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে খুলানা বিভাগীয় পরিচালক মৎস প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ডাঃ গোলাম হায়দার বলেন, গেল বছর প্রায় ৫ লাখ ৩৮ হাজার মত গরু, ৬ হাজার মহিস কোরবানি ঈদে জবাই জন্য প্রস্তুত ছিল। এবছর আরও বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত আছে। আমরা খামার গুলোতে নিয়মিত তদারকি ও অসুস্থ্য হলে ওষুধসহ অন্যান্য পরামর্শ প্রদান করছি। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে।



