জাল সনদে এমপিওভুক্তির অভিযোগ: দুদকের অনুসন্ধান শুরু

# খুলনার মেট্রোপলিটন কলেজ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার মেট্রোপলিটন কলেজে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজটির একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং এমপিও সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ রবিবার থেকে কলেজটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি জরুরি পত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পত্রে বলা হয়, কলেজের আরবি সাহিত্য বিভাগের সিনিয়র লেকচারার জিয়াস আলী শেখসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে চাকরি গ্রহণ এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, তদন্তের মূল বিষয় হলোÍসংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা ভুয়া ও জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ গ্রহণ করেছেন কি না এবং এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিধি-বিধান ও যোগ্যতার শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগপত্র, শিক্ষাগত সনদ, প্রশিক্ষণ সনদ, অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং এমপিও অনুমোদনের ফাইলসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখা হবে। দুদকের চিঠিতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আরবি সাহিত্য, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষি, সচিবিকবিদ্যা, কম্পিউটার, বাংলা, অর্থনীতি, বাণিজ্যিক ভূগোলসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা রয়েছেন। পাশাপাশি অফিস স্টাফ, ল্যাব সহকারী, লাইব্রেরিয়ান, আয়া ও অফিস সহায়কসহ অন্যান্য কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া দুদক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিদেশ গমন সংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছে। তারা বিদেশে যাওয়ার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না এবং ছুটির বিধি অনুসরণ করেছিলেন কি নাÍসেসব বিষয়ও যাচাই করা হবে বলে জানা গেছে। দুদক কর্তৃপক্ষ কলেজ প্রশাসনকে আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান না করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও চিঠিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। সময়সীমা সীমিত হওয়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।” এদিকে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. তাইফুজ্জামান বলেন, “দুদক কর্মকর্তারা যদি কারও বিরুদ্ধে কিছু পেয়ে থাকেন, সেটার দায়ভার আমার নয়, সেটা সংশ্লিষ্টদের।” অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে একটি মহল হয়রানির চেষ্টা করছে। প্রভাষক শাহনাজ পারভীন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের হয়রানি করছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।



